গার্মেন্টস খাতে শিল্প ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বা রুফটপ সোলারের ব্যবহার বাড়ানো গেলে দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টার ইন মিলনায়তনে আয়োজিত পঞ্চম বাংলাদেশ-চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ফোরামে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এমন কথা বলেন। ‘গার্মেন্টস খাতে শিল্পের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ: চীনা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা’ শীর্ষক এ ফোরামের আয়োজন করেছে সিপিডি।
গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে অবর্ণনীয় জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করছেন। তবে অনেক আগে থেকেই শিল্পকারখানায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো গেলে বর্তমান সংকটের চাপ আরও কম থাকত। শিল্প খাতে রুফটপ সোলারকে আরও উৎসাহিত ও সহজতর করা গেলে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা সহজ হবে।
তিনি আরও বলেন, গত দুই থেকে তিন বছরে শিল্প খাতে রুফটপ সোলারের ব্যবহার বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত খুব নীরবে রুফটপ সোলারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শিল্পোদ্যোক্তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। এতে একদিকে জ্বালানির ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে কার্বন নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রেও গার্মেন্টস খাতের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক বলেন, এর আগে শিল্পের ডিকার্বোনাইজেশন নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গার্মেন্টস খাতে শক্তি দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। পুরোনো ও অদক্ষ যন্ত্রপাতি পরিবর্তন করে আধুনিক শক্তি-সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলে জ্বালানির চাহিদা কমানো সম্ভব। সিপিডির ওই গবেষণায় দেখা গেছে, শক্তি-সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতিসমেত দক্ষ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গার্মেন্টস খাতে অন্তত ১৫ শতাংশ জ্বালানি চাহিদা কমানো সম্ভব। এ জন্য প্রায় ১৪০ কোটি ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এবারের ফোরামে শক্তি দক্ষতার পাশাপাশি গার্মেন্টস কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে সিপিডি একটি ভিন্নধর্মী পদ্ধতিতে গবেষণা করেছে। কারখানায় গিয়ে সরাসরি জরিপ করার পরিবর্তে গার্মেন্টস কারখানার ছাদের স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করে সম্ভাব্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা নিরুপণ করা হয়েছে।

গোলাম মোয়াজ্জেম আরও বলেন, গুগল ম্যাপ ও বৈশ্বিক স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করে গার্মেন্টস শিল্পের ছাদের আয়তন ও সেখানে সম্ভাব্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা হিসাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে জাতীয় ভবন বিধিমালা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য নিয়ম বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এই গবেষণায় গার্মেন্টস খাতে রুফটপ সোলারের সম্ভাবনা সম্পর্কে বেশ কিছু আশাব্যঞ্জক তথ্য পাওয়া গেছে।
চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিশ্বে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী উল্লেখ করে গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে চীনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে, যা বাংলাদেশেও কাজে লাগানোর সুযোগ আছে। বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে চীনা বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে এই খাতে চীনা বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন— বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালক শাহ নুসরাত জাহান, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী (পরিকল্পনা ও পরিচালন) স্বপন বণিক, বাংলাদেশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমিতির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি জাহিদুল আলম, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মিনহাজুল হকসহ সংশ্লিষ্টরা ।
এ ছাড়া আলোচক হিসেবে ছিলেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর এনার্জি রিসার্চের পরিচালক শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী এবং হা-মীম গ্রুপের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পরিবেশগত টেকসই বিভাগের প্রধান তানজিল চক্রবর্তী। ফোরামে মূল গবেষণা উপস্থাপন করেছেন সিপিডির গবেষণা সহযোগী আবরার আহমেদ ভূঁইয়া ও কর্মসূচি সহযোগী নূর ইয়ানা জান্নাত।
এএইচ/এফএ




