চাপের মুখে উত্তরা ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যানসহ তিন স্বতন্ত্র পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদত্যাগ করার পর এবার প্রতিষ্ঠানটিতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালক মো. মোস্তাকুর রহমানকে উত্তরা ফাইন্যান্সের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
উত্তরা গ্রুপের বিভিন্ন অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগের পর ২০২২ সাল থেকে উত্তরা ফাইন্যান্স স্বতন্ত্র পরিচালকদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটির পর্ষদ পুনর্গঠন এবং সর্বশেষ কয়েকজন পরিচালকের পদত্যাগের পর প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিদর্শনে উত্তরা ফাইন্যান্সে গ্রাহকের আমানতের অর্থ প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা না দিয়ে ব্যবহার, কলমানি থেকে ঋণ নিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যক্তিগত কাজে খাটানো, অগ্রিম ও প্রি-পেমেন্টের নামে অর্থ আত্মসাৎ এবং ভুয়া এফডিআরের বিপরীতে ঋণ নেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। এসব ঘটনায় অন্তত ৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকার জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া যায়।
জালিয়াতিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে উত্তরা গ্রুপ সংশ্লিষ্ট পাঁচ পরিচালককে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তারা হলেন তৎকালীন চেয়ারম্যান রাশেদুল হাসান, উত্তরা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠানের তৎকালীন ভাইস চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, তার ভাই ও পরিচালক মুজিবুর রহমান, উত্তরা পরিবারের সদস্য ও প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জাকিয়া রহমান এবং নাঈমুর রহমান।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে উত্তরা ফাইন্যান্সের পাঁচ সদস্যের পর্ষদ পুনর্গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর গত রোববার চেয়ারম্যান মো. মুখতার হোসেন, স্বতন্ত্র পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. নিয়ামুল কবির এবং মো. রফিকুল ইসলাম এফসিএস পদত্যাগ করেন। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওয়ালি উল্লাহও পদত্যাগ করেন।
পদত্যাগ না করা দুই পরিচালক হলেন উত্তরা গ্রুপের আইন উপদেষ্টা ও স্বতন্ত্র পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল আজম এবং উত্তরা গ্রুপের সিএফও মাহবুব আলম। উত্তরা গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার পরও তাদের কীভাবে পর্ষদে যুক্ত করা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ বিষয়টি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে কোনো অনৈতিক লেনদেন হয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
উত্তরা ফাইন্যান্সের এক কর্মকর্তা জানান, উত্তরা গ্রুপের জালিয়াতির ঘটনায় মামলা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঋণ মওকুফের বিষয়কে কেন্দ্র করে পর্ষদে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। এর জেরে গত রোববার চেয়ারম্যান ও কয়েকজন পরিচালককে একযোগে পদত্যাগে বাধ্য করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
ওই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির একটি পক্ষ মিলে পরিচালকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। এসব বিরোধ ও অভিযোগের মধ্যেই এবার উত্তরা ফাইন্যান্সের পরিচালনার দায়িত্ব প্রশাসকের হাতে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
টিএই/এএস




