রোববার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

শিল্প খাতে বিদ্যুতায়নের দিকেই যেতে হবে: গোলাম মোয়াজ্জেম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৬ পিএম

শেয়ার করুন:

শিল্প খাতে বিদ্যুতায়নের দিকেই যেতে হবে: গোলাম মোয়াজ্জেম
সিপিডি আয়োজিত সংলাপে কথা বলছেন সংগঠনটির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেছেন, ‘সরকার এলএনজি আমদানির মাধ্যমে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে। কিন্তু এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। দীর্ঘমেয়াদে গ্যাসভিত্তিক ব্যবস্থা থেকে সরে এসে শিল্প খাতে বিদ্যুতায়নের দিকেই যেতে হবে।’

রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে শিল্পের কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং তৈরি পোশাক খাতের জ্বালানি রূপান্তর বিষয়ে সিপিডি আয়োজিত সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

মোয়াজ্জেম বলেন, এলএনজি এনে বর্তমান সংকট সাময়িকভাবে মোকাবিলা করা গেলেও ভবিষ্যতে সরকারকে আবারও গ্যাসের দাম বাড়াতে হতে পারে। তাই শিল্পের প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে হলে নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, কারখানাগুলোতে আধুনিক ও জ্বালানি-দক্ষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে সামগ্রিক উৎপাদন খরচ প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে ১০ থেকে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি সাশ্রয় হবে, যা শিল্পের ব্যয় কমানোর পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণও হ্রাস করবে। প্রযুক্তিগত রূপান্তরের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা তৈরি পোশাক শিল্পে রয়েছে। এই খাতে প্রযুক্তি বদলানো গেলে বছরে ২৫ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব।

2

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে পোশাক কারখানার মোট যন্ত্রপাতির ৮৫ শতাংশ সেলাই বিভাগে থাকলেও সেখানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সুযোগ মাত্র ৩ শতাংশ। বিপরীতে কাটিং বিভাগে যন্ত্রপাতি কম হলেও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মোট সম্ভাব্য বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ২৭ শতাংশের বেশি অর্জন করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, ওয়াশিং ও ডায়িং বিভাগ সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। শুধু সৌরবিদ্যুৎ বা সাধারণ বৈদ্যুতিক রূপান্তরের মাধ্যমে এই তাপনির্ভর প্রক্রিয়ায় গ্যাসের বিকল্প তৈরি করা সম্ভব নয়। এ কারণে ইলেকট্রিক বয়লারের মতো প্রযুক্তি ব্যবহারে সরকারের নীতিগত সহায়তা ও ভর্তুকি প্রয়োজন।

রুফটপ সৌরবিদ্যুতের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, কারখানাগুলোতে ৩০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে গড় মাসিক জ্বালানি ব্যয় প্রায় ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ কমানো সম্ভব। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দামের ওঠানামাজনিত ঝুঁকিও প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পাবে।

সংলাপে বিজিএমইএর সহসভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান এবং বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ/ এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর