বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ম্যারিকো বাংলাদেশের এমডির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন

ঢাকা মেইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম

শেয়ার করুন:

ম্যারিকো বাংলাদেশের এমডির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন

ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে শ্রম আদালতে আবেদন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শ্রমিকরা।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার ১ম শ্রম আদালতে দায়ের করা বিএলএ মামলা নম্বর ৮৬৫/২০২৫-এ ‘এক্স-ম্যারিকোনিয়ান অ্যাসোসিয়েশন’এর সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমানসহ বঞ্চিত সাবেক শ্রমিকরা এ আবেদন করেন।

এতে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ না করে কোম্পানির বিপুল পরিমাণ মুনাফা ও নগদ লভ্যাংশ বিতরণ এবং মামলা বিচারাধীন অবস্থায় অর্থ ও সম্পদ ভারতে স্থানান্তরের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

আবেদনে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোম্পানির এমডি যেন আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়া বাংলাদেশ ত্যাগ করতে না পারেন, সে বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষামূলক আদেশ চাওয়া হয়েছে।

ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের সাবেক শ্রমিকদের অভিযোগ, ২০০৬ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তারা ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের শ্রমিক মুনাফা অংশগ্রহণ তহবিল ও শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের আইনগত পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় প্রথমে ১৯ শ্রমিক ২০১৪ সালে শ্রম আদালতে মামলা (৬৯১/২০১৪) দায়ের করেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন (৫৭৬/২০১৮) দায়ের হওয়ায় বিচারিক প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন বাধাগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে পুনরায় প্রতিকারের আশায় আরও ৯৪ শ্রমিক ২০২৫ সালে বিএলএ মামলা (৮৬৫/২০২৫) দায়ের করেন। এসব মামলা এখনো আদালতে বিচারাধীন।

আবেদনকারী শ্রমিকরা জানান, দেশের একটি স্বনামধন্য চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্মের স্বতন্ত্র নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ম্যারিকো বাংলাদেশের ৯৪ জন সাবেক শ্রমিকের ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত মোট পাওনা প্রায় ১,৪৮১ কোটি টাকা।

তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর শ্রমিকদের আইনগত পাওনা অনাদায়ী থাকলেও একই সময়ে কোম্পানি বিপুল পরিমাণ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা ও বিতরণ করে আসছে।

শ্রমিকরা আরও অভিযোগ করেন, ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২০০ শতাংশ, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩,৮৪০ শতাংশ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২,০৭৫ শতাংশ পর্যন্ত নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এ অবস্থায় তারা প্রশ্ন তুলেছেন, শ্রমিকদের আইনগত পাওনা যেখানে দীর্ঘদিন ধরে অনিষ্পন্ন ও অনাদায়ী, সেখানে কোম্পানির বিপুল মুনাফার অর্থ কীভাবে ভারতের স্থানান্তর করা হচ্ছে।

শ্রমিকদের আশঙ্কা, কোম্পানির বিপুল পরিমাণ নগদ লভ্যাংশ বিতরণ ও অর্থ স্থানান্তর চলমান থাকলে ভবিষ্যতে আদালতের রায় বাস্তবায়নের সময় শ্রমিকদের পাওনা আদায় কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে কোম্পানির বর্তমান এমডি একজন ভারতীয় নাগরিক হওয়ায় তিনি নিয়মিত বিদেশ সফর করেন। এ বিষয়টিও আদালতের কাছে বিবেচনার জন্য তুলে ধরা হয়েছে।

তারা বলছেন, আমরা কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো অন্যায্য সুবিধা চাই না; আমরা চাই আইন অনুযায়ী আমাদের পাওনা পরিশোধ এবং দীর্ঘদিনের বিরোধের ন্যায়সঙ্গত নিষ্পত্তি। শ্রমিকের পাওনা বছরের পর বছর অনাদায়ী রেখে বিপুল লভ্যাংশ বিতরণের বিষয়টি আদালতের যথাযথ পর্যালোচনা ও জবাবদিহিতার আওতায় আসা প্রয়োজন।

আবেদনকারীদের ভাষ্য, তারা কোনো ব্যক্তির স্বাভাবিক চলাচলের অধিকারে অযাচিত হস্তক্ষেপ করতে চান না। তবে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান শ্রমিকদের পাওনা সংক্রান্ত বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এবং সম্ভাব্য আদালতের রায় কার্যকর রাখার স্বার্থেই সাময়িক সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছে।

সাবেক শ্রমিকরা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে তাদের ন্যায্য পাওনা আটকে থাকা শুধু একটি আর্থিক বিরোধ নয়, বরং এটি শ্রমিকের আইনগত অধিকার, কর্পোরেট জবাবদিহিতা এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। তাদের দাবি, কোম্পানির মুনাফা ও লভ্যাংশ বিতরণের পাশাপাশি শ্রমিকদের আইনগত পাওনা পরিশোধের বিষয়টিকেও সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর