শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

সুগন্ধি চাল এখন নাগালের বাইরে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম

শেয়ার করুন:

সুগন্ধি চাল এখন নাগালের বাইরে

চালের দোকানে দাঁড়িয়ে পোলাও চালের দাম শুনেই চুপ করে গেলেন গৃহিণী রেহানা বেগম। তিন কেজি পোলাও চাল হাতে নিয়ে আবার নামিয়ে রাখলেন। পরে এক কেজি চাল কিনে বাজার শেষ করলেন। বের হওয়ার সময় বললেন, ‘আগে মাসে এক-দুইবার পোলাও রান্না হতো। এখন দাম এত বেড়েছে যে বিশেষ দিন ছাড়া কেনার সাহসই হয় না।’

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে রাজধানীর মিরপুর-৬ কাঁচাবাজারে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

বাজারে আসা অনেক ক্রেতাই বলছেন, দৈনন্দিন খাবারের জন্য মোটা চাল কিনলেও সুগন্ধি বা পোলাও চাল এখন অনেক পরিবারের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

মিরপুর-৬ কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মানভেদে সুগন্ধি চালের দাম কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২২০ টাকা। কয়েকটি উন্নত মানের চালের দাম আরও বেশি। অন্যদিকে সাধারণ মোটা চাল ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা এবং মাঝারি মানের চাল ৬০ থেকে ৭৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা জানান, গত কয়েক সপ্তাহে বিশেষ করে চিকন ও সুগন্ধি চালের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

ক্রেতাদের মতে, বাজারে একটির পর একটি পণ্যের দাম বাড়ায় সংসারের বাজেট নতুন করে সাজাতে হচ্ছে। যেসব খাবার একসময় মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য স্বাভাবিক ছিল, সেগুলোও এখন ধীরে ধীরে সীমিত হয়ে যাচ্ছে।

বেসরকারি চাকরিজীবী আরিফুল ইসলাম বলেন, বাসায় ছোট ছেলের জন্মদিন সামনে। ভাবছিলাম পোলাও রান্না করব। কিন্তু চালের দাম শুনে সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেছি। এখন শুধু সাধারণ ভাত রান্না করলেই খরচ সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

9

একই বাজারে বাজার করতে আসা গৃহিণী সেলিনা আক্তার বলেন, ‘আগে অতিথি এলেই পোলাও রান্না করতাম। এখন সেই চাল কিনতে গেলেই দুই শতাধিক টাকা কেজি। তাই বিশেষ অনুষ্ঠান ছাড়া আর কেনা হয় না।’

চালের দোকানদার মো. নাসির উদ্দিন বলেন, সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চিকন ও সুগন্ধি চালের দাম। মিল থেকে বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে। পরিবহন ও অন্যান্য খরচও বেড়েছে। ফলে খুচরা বাজারে আগের দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

আরেক ব্যবসায়ী আবদুল হালিম বলেন, ‘আগে অনেকেই পাঁচ বা ১০ কেজি করে সুগন্ধি চাল কিনতেন। এখন বেশির ভাগ ক্রেতা এক বা দুই কেজির বেশি নেন না। অনেকে আবার দাম শুনেই ফিরে যান।’

অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আবুল কাসেম বলেন, ‘সুগন্ধি চাল এখন আর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নয়, বিলাসিতার মতো হয়ে গেছে। আগে মাসে কয়েকবার রান্না হতো, এখন ঈদ বা বিশেষ পারিবারিক অনুষ্ঠান ছাড়া কেনা হয় না।’

এএইচ/এএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর