- ফের মেয়াদ বাড়ছে ৪ বছর, ব্যয় বৃদ্ধি ১০ হাজার কোটি টাকা
- ব্যয় বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ২৭ হাজার কোটি টাকার বেশি
- বিমানবন্দর সংযোগে পরিবর্তন করা হয়েছে প্রকল্পের নকশা
- কাওলা থেকে শ্রীপুর পর্যন্ত হবে উড়ালপথ
- শিল্পাঞ্চলের যানজট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ হবে এক্সপ্রেসওয়ে
- নকশা পরিবর্তনেও বেড়েছে প্রকল্পের ব্যয়
রাজধানীর যানজট কমানো, উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করা এবং চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোর সংযোগ আরও কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে প্রায় এক দশক আগে নেওয়া হয়েছিল ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প। ২০১৭ সালে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় একবার মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো হয়। এরপরও কাজ শেষ না হওয়ায় দ্বিতীয়বারের মতো প্রকল্পটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি এবং মেয়াদ বাড়ছে আরও চার বছর। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সময় লাগবে প্রায় ১৩ বছর।
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) আগামী বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের কথা রয়েছে। সংশোধনী অনুযায়ী প্রকল্পের ব্যয় ১৬ হাজার ৯০১ কোটি ৩২ লাখ টাকা থেকে বেড়ে হবে ২৭ হাজার ৪৫ কোটি ৬৭ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। অর্থাৎ মূল অনুমোদনের তুলনায় ব্যয় বাড়ছে প্রায় ১০ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা। প্রথম সংশোধিত ব্যয়ের তুলনায়ও ব্যয় বাড়ছে প্রায় ৯ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা।
শুধু ব্যয়ই নয়, প্রকল্পের মেয়াদও আবার বাড়ানো হচ্ছে। শুরুতে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য ছিল। পরে প্রথম সংশোধনীতে সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। এবার দ্বিতীয় সংশোধনীতে মেয়াদ আরও চার বছর বাড়িয়ে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ অনুমোদনের পর প্রকল্পটি শেষ হতে সময় লাগবে প্রায় ১৩ বছর।

প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন (জিওবি) থাকবে ১৩ হাজার ৮০৩ কোটি ১৫ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। আর চীনের এক্সিম ব্যাংকের ঋণ থেকে ব্যয় হবে ১৩ হাজার ২৪২ কোটি ৫২ লাখ ১৫ হাজার টাকা। সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পটি দেশের অন্যতম বড় বৈদেশিক ঋণনির্ভর অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য রাজধানীর উত্তর-পশ্চিম প্রবেশপথে দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন করা এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা ইপিজেডসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর এবং দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও ব্যয়সাশ্রয়ী যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলাও প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য।
প্রকল্পের আওতায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাওলা থেকে শুরু হয়ে আব্দুল্লাহপুর, কামারপাড়া, ধউর, আশুলিয়া, জিরাবো, বাইপাইল, ঢাকা ইপিজেড হয়ে সাভার উপজেলার শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে। এ রুট রাজধানীর সবচেয়ে ব্যস্ত যানবাহন চলাচলের করিডরগুলোর একটি। প্রতিদিন কয়েক লাখ মানুষ এবং হাজার হাজার পণ্যবাহী যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করে। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর প্রবেশমুখের যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ১৪ হাজার ৫৫৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এতে আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৫৩ দশমিক ৮২ শতাংশ। অন্যদিকে বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ৬৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ প্রকল্পের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি কাজ এখনো বাকি রয়েছে। সেই অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতেই আরও চার বছর সময় চাওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আধুনিক ও সমন্বিত যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলা, রাজধানীর যানজট কমানো, শিল্পাঞ্চলের যোগাযোগ উন্নত করা এবং জাতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ কারণে প্রকল্পটির অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে বলে কমিশন মত দিয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে একক কোনো কারণ নয়; বরং গত কয়েক বছরে অর্থনৈতিক বাস্তবতা, নকশাগত পরিবর্তন, অতিরিক্ত অবকাঠামো সংযোজন এবং নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধিসহ একাধিক বিষয় একসঙ্গে কাজ করেছে। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধি, কর ও শুল্ককাঠামোর পরিবর্তন, ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় বৃদ্ধি, ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং নতুন অবকাঠামো সংযোজনের কারণে প্রকল্পের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
প্রকল্প পরিচালক যুগ্ম সচিব মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, শুধু মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার পরিবর্তনের কারণেই প্রকল্পে অতিরিক্ত প্রায় ৩ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা ব্যয় যোগ হয়েছে। প্রকল্পের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, নির্মাণসামগ্রী ও বিদেশি ঠিকাদারি ব্যয়ের বড় অংশ বৈদেশিক মুদ্রার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বিনিময় হার বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব প্রকল্প ব্যয়ের ওপর পড়েছে।
এ ছাড়া ভ্যাট, কর ও কাস্টমস শুল্ক বৃদ্ধির কারণে আরও প্রায় ১ হাজার ৩০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণের খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, শুধু ভূমি অধিগ্রহণেই অতিরিক্ত প্রায় ৭৪৭ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, টেলিযোগাযোগসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার লাইন স্থানান্তরে আরও প্রায় ৫১৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হয়েছে। এর বাইরে মূল্য সমন্বয় বা প্রাইস কনটিনজেন্সি খাতে প্রায় ১ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা বাড়তি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ায় নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি, শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয়ের বিষয়টিও এ খাতে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু অর্থনৈতিক কারণেই ব্যয় বাড়েনি। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নতুন কয়েকটি অবকাঠামো যুক্ত হওয়ায় প্রকল্পের পরিধিও আগের তুলনায় বড় হয়েছে। সংশোধনী প্রস্তাবে পাঁচটি বড় ভেরিয়েশন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
প্রথম ভেরিয়েশনে নৌপথের নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্স পরিবর্তনের কারণে সেতু ও এলিভেটেড অংশের নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। দ্বিতীয় ভেরিয়েশনে রেললাইন-সংক্রান্ত ক্লিয়ারেন্স পরিবর্তনের বিষয়টি যুক্ত হয়েছে। দেশের রেল অবকাঠামো সম্প্রসারণ পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এক্সপ্রেসওয়ের কয়েকটি অংশের নকশা পরিবর্তন করতে হয়েছে।

তৃতীয় ভেরিয়েশন হিসেবে বাইপাইল মোড়ে পূর্ণাঙ্গ ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণ যুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি নির্মিত হলে বাইপাইল এলাকার যানবাহন চলাচল আরও সহজ হবে। বর্তমানে দেশের অন্যতম ব্যস্ত এ মোড়ে প্রায় প্রতিদিন দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। নতুন ইন্টারচেঞ্জ চালু হলে যানবাহনকে আর একই পয়েন্টে অপেক্ষা করতে হবে না এবং বিভিন্ন দিকে চলাচলকারী যানবাহন আলাদা লেনে বিভক্ত হয়ে নির্বিঘ্নে চলতে পারবে।
চতুর্থ ভেরিয়েশনে কেন্দ্রীয় কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল ভবন (সিসিবি) এবং পুলিশ স্টেশন ভবন নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আধুনিক এক্সপ্রেসওয়ের নিরাপত্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নজরদারি, দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ এবং টোল ব্যবস্থাপনা পরিচালনার জন্য এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হবে।
পঞ্চম ভেরিয়েশন হিসেবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের জন্য নতুন এন্ট্রি ও এক্সিট র্যাম্প নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নির্মাণাধীন পাতাল মেট্রোরেল-১-এর সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ভবিষ্যতের যানবাহনের চাপ এবং বিমানবন্দরের সম্প্রসারণকে সামনে রেখেই এ পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের শুরুতে যেসব নকশা করা হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংস্থার চাহিদা, নতুন অবকাঠামো পরিকল্পনা এবং বাস্তব পরিস্থিতির কারণে সেগুলোর বেশ কিছু পরিবর্তন করতে হয়েছে। ফলে প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হওয়া অনিবার্য হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, সংশোধনী অনুমোদিত হলে বাইপাইলে নতুন ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণের পাশাপাশি বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হবে। এতে ভবিষ্যতে বিমানবন্দরগামী যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমবে এবং রাজধানীর উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ১৪ হাজার ৫৫৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এতে আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৫৩ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ৬৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ প্রকল্পের অর্ধেকের বেশি অর্থ ব্যয় হলেও এখনো প্রায় ৩৬ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। এই অবশিষ্ট কাজ শেষ করতেই আরও চার বছর সময় চাওয়া হয়েছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটি শুরু হওয়ার পর একাধিক বাস্তব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। রাজধানীর অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত সড়ক করিডরে নির্মাণকাজ পরিচালনা, ভূমি অধিগ্রহণ, বিভিন্ন সংস্থার ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তর, রেলওয়ে, সিভিল এভিয়েশন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় এবং পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের নকশায় পরিবর্তনের কারণে কাজের গতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে রাখা সম্ভব হয়নি।
বিশেষ করে বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, নির্মাণাধীন পাতাল মেট্রোরেল-১ এবং রেলপথ সম্প্রসারণ প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয় করতে গিয়ে প্রকল্পের কয়েকটি অংশে নকশা পরিবর্তন করতে হয়েছে। এতে একদিকে যেমন প্রকল্পের পরিধি বেড়েছে, অন্যদিকে বাস্তবায়নের সময়ও দীর্ঘ হয়েছে।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও র্যাম্প নির্মাণ, বাইপাইল ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণ, অ্যাট-গ্রেড সড়ক পুনর্নির্মাণ, দুই লেনের সেতু নির্মাণ, ওভারপাস ও ফ্লাইওভার নির্মাণ, ড্রেনেজব্যবস্থা, ইউটিলিটি ডাক্ট স্থাপন, টোল প্লাজা নির্মাণ, ভূমি অধিগ্রহণ এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও টেলিযোগাযোগসহ বিভিন্ন সেবালাইন স্থানান্তরের কাজ। প্রকল্পের বড় অংশের কাজ একই সঙ্গে চলমান থাকায় বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তাও বেড়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর উত্তর-পশ্চিম প্রবেশপথের যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। বর্তমানে কাওলা, আব্দুল্লাহপুর, আশুলিয়া ও বাইপাইল এলাকায় প্রতিদিন দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলমুখী ভারী যানবাহনের কারণে এই সড়কে যান চলাচল প্রায়ই স্থবির হয়ে পড়ে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে এসব যানবাহনের একটি বড় অংশ উড়ালপথ ব্যবহার করতে পারবে। এতে নিচের সড়কেও যানবাহনের চাপ কমবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা ইপিজেডসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলে প্রতিদিন হাজার হাজার শ্রমিক এবং শত শত পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। যানজটের কারণে শিল্পকারখানাগুলোকে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় বহন করতে হয় এবং সময়মতো কাঁচামাল ও প্রস্তুত পণ্য পরিবহনে নানা সমস্যা তৈরি হয়। এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে এসব সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা কমিশন উল্লেখ করেছে, প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত আধুনিক ও সমন্বিত যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, রাজধানীর যানজট নিরসন, শিল্পায়ন সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি পরিবহন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন পরিকল্পনারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য ড. মো. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় কমবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এসব দিক বিবেচনায় প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
এএইচ/এআর




