রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পোশাকশিল্পে এআই ও প্রযুক্তি ব্যবহারের তাগিদ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম

শেয়ার করুন:

প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পোশাকশিল্পে এআই ও প্রযুক্তি ব্যবহারের তাগিদ
এলডিসি পরবর্তী প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পোশাকশিল্পে এআই ব্যবহারের তাগিদ। ছবি: সংগৃহীত

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন, ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ এবং উচ্চ মূল্যসংযোজন পণ্যের উৎপাদনে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার তাগিদ দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন এবং টেকসই উন্নয়নই হবে সবচেয়ে বড় শক্তি।

সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইয়ুথ লিডার্স অ্যালায়েন্সের (বায়লা) আয়োজনে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী ‘বায়লা ফিউচার সামিট-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, তৈরি পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি এবং কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় উৎসগুলোর একটি। এ খাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে দক্ষ, উদ্ভাবনী ও দায়িত্বশীল নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব গড়ে তোলা জরুরি।

তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের চাহিদা পূরণে শ্রমশক্তিকে নতুন দক্ষতায় প্রশিক্ষিত ও পুনঃপ্রশিক্ষিত করা সময়ের দাবি। সরকার শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রেখে শিল্পবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। একই সঙ্গে টেকসই শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে নতুন নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ভবিষ্যতে পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতা শুধু কম উৎপাদন ব্যয় বা বাজারসুবিধার ওপর নির্ভর করবে না; বরং দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা এবং পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে। তিনি বলেন, এআই গ্রহণ ছাড়া অদূর ভবিষ্যতে কোনো পোশাক কারখানার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে। ডিজিটাল রূপান্তর গ্রহণকারীরাই এগিয়ে থাকবে।

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহসভাপতি বিদিয়া অমৃত খান বলেন, শুধু ক্রেতার অর্ডার অনুযায়ী উৎপাদন করে আর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। উদ্ভাবন, নিজস্ব নকশা, ব্র্যান্ড উন্নয়ন এবং মূল্যসংযোজনের দিকে যেতে হবে। তিনি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এআই, অটোমেশন ও ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি নিজস্ব ডিজাইন স্টুডিও, ফ্যাশন শিক্ষা ও দেশীয় ব্র্যান্ড গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উর্মি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ আশরাফ বলেন, মজুরি বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার কারণে উৎপাদনশীলতা, গুণগত মান ও দক্ষতা বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই। তাই অটোমেশন এখন আর বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘এআই মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে না; বরং যারা এআই ব্যবহার করবে, তারা এআই ব্যবহার না করা মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে।’ উৎপাদন পরিকল্পনা, কারখানা পরিচালনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে এআই ব্যবহারের পাশাপাশি কারিগরি ও চিকিৎসাবিষয়ক বস্ত্রসহ উচ্চ মূল্যসংযোজন পণ্য উৎপাদনে জোর দেন তিনি।

বায়লার সভাপতি আবরার হোসেন সায়েম বলেন, আগামী দিনের বৈশ্বিক বাজারে প্রচলিত ব্যবসায়িক মডেল দিয়ে প্রতিযোগিতা করা সম্ভব হবে না। নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের দ্রুত এআই ও ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ প্রযুক্তি গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি সবুজ অর্থায়ন, আধুনিক সরবরাহব্যবস্থা এবং ধারাবাহিক নীতিসহায়তার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

শেলটেক গ্রুপের পরিচালক তানভীর আহমেদ বলেন, নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতায় টিকে থাকতে অটোমেশন, এআই, দক্ষ জনবল এবং উচ্চ মূল্যসংযোজন পণ্যে আরও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। পাশাপাশি বাজার বহুমুখীকরণ, মূল্যশৃঙ্খল উন্নয়ন, লজিস্টিকস শক্তিশালীকরণ, উৎপাদনের সময় কমানো এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর জোর দেন তিনি।

ইউরোপিয়ান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (ইউরোচ্যাম)-এর চেয়ারম্যান নুরিয়া লোপেজ বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা এখনো শক্তিশালী। তবে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে টেকসই উৎপাদন, পরিবেশগত মানপালন এবং পণ্যের বহুমুখীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

‘ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের গণ্ডি পেরিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ: ডিস্ট্রিবিউশন ও ভোক্তার অভিজ্ঞতার শক্তি’ শীর্ষক অধিবেশনে ট্রান্সকম লিমিটেডের গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমান বলেন, বৈশ্বিক ক্রেতারা এখন শুধু পোশাক নয়, বাংলাদেশের কাছ থেকে মান, টেকসই উৎপাদন, আস্থা, উদ্ভাবন ও নির্ভরযোগ্যতাও প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা প্রতিটি পণ্য যেন উৎকর্ষতার প্রতীক হয়, সে লক্ষ্যেই কাজ করতে হবে।

টিএই/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর