শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

৭ হাজার কোটি টাকা বকেয়া দাবি আদায়ে অগ্রাধিকার, পরে শুদ্ধি অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম

শেয়ার করুন:

৭ হাজার কোটি টাকা বকেয়া দাবি আদায়ে অগ্রাধিকার, পরে শুদ্ধি অভিযান

বিমা খাতে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা প্রায় সাত হাজার কোটি টাকার বকেয়া দাবি পরিশোধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন। তিনি বলেছেন, গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই প্রথমে বকেয়া দাবি পরিশোধ করে খাতকে স্থিতিশীল করা হবে। এরপর অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের বিরুদ্ধে কঠোর শুদ্ধি অভিযান চালানো হবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে জীবন ও সাধারণ বিমা মিলিয়ে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র সাতটি সংকটাপন্ন বিমা কোম্পানির কাছেই প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার দাবি আটকে আছে। তাই প্রাথমিকভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদ, বিনিয়োগ ও আর্থিক সক্ষমতা পর্যালোচনা করে দাবি পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত দুই সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট সাতটি কোম্পানির মালিকপক্ষ ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে সম্পদের পুনর্মূল্যায়নও করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের জমি, ট্রেজারি বন্ড, বিনিয়োগ ও অন্যান্য সম্পদ ধাপে ধাপে বিক্রি করে অর্থ পৃথক ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে। প্রতিটি কোম্পানির জন্য আলাদা হিসাব থাকবে এবং নিরীক্ষকের তত্ত্বাবধানে ‘ফার্স্ট ইন, ফার্স্ট আউট (এফআইএফও)’ পদ্ধতিতে দাবি পরিশোধ করা হবে। সম্পদ নগদায়নের ক্ষেত্রে ভালো ব্যাংকে রাখা এফডিআর, সরকারি ট্রেজারি বন্ড, বিক্রিযোগ্য জমি এবং অন্যান্য বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকে আটকে থাকা আমানতের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান খোঁজা হবে।

মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, বিমা খাতে অতিরিক্ত কমিশন দেওয়ার প্রবণতা এখনো বন্ধ হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে বেতনের আড়ালে কিংবা বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে কমিশন দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের কমিশন বাণিজ্য বন্ধে কাজ চলছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি জানান, প্রচলিত তদারকি ব্যবস্থার পরিবর্তে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত ও হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে কোম্পানিগুলোর ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হবে, ফলে অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। গ্রাহক সুরক্ষায় ইউনিক পলিসি হোল্ডার আইডি চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। বৈধ বিমা পলিসির বিপরীতে গ্রাহকের মোবাইলে একটি ইউনিক আইডি পাঠানো হবে এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

বিমা কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের শিক্ষাগত সনদ জালিয়াতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সনদ যাচাই আরও কঠোর করা হবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক তথ্যভান্ডার, সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সিআইবির তথ্য ব্যবহার করে যাচাই করা হবে।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, প্রথম ধাপে গ্রাহকের দাবি পরিশোধ ও খাতকে স্থিতিশীল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরপর যেসব ক্ষেত্রে অর্থ আত্মসাৎ বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যাবে, সেসব ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আইডিআরএতে জনবল সংকট রয়েছে। সরকারি নিয়োগে সীমাবদ্ধতা থাকায় বিকল্প উপায়ে মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন ও তদারকি জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধারই এখন প্রধান লক্ষ্য, এরপর ধাপে ধাপে পুরো বিমা খাতকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হবে।


এমআর/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর