সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

নেগেটিভ ইকুইটির ব্যাংক শেয়ারের মূল্য ‘শূন্য’ হতে পারে: বিএসইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম

শেয়ার করুন:

নেগেটিভ ইকুইটির ব্যাংক শেয়ারের মূল্য ‘শূন্য’ হতে পারে: বিএসইসি

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে একীভূত হওয়া পাঁচটি দুর্বল ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর নেট ইকুইটি যদি ঋণাত্মক হয়ে থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুযায়ী সেসব শেয়ারের মূল্য শূন্যও হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘সিএমজেএফ টক’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

মাসুদ খান বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মূল্য নির্ধারণে প্রথমেই দেখতে হয় তার প্রকৃত আর্থিক অবস্থা কী। যদি কোনো কোম্পানি বা ব্যাংকের নেট ইকুইটি ঋণাত্মক হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন পদ্ধতিতে সেই শেয়ারের মূল্য শূন্য ধরা হতে পারে।

তার ভাষায়, ওই পাঁচটি ব্যাংকের নেগেটিভ নিট ইকুইটি ছিল। এসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ভ্যালুয়েশন মেথডোলজি অনুযায়ী শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। নেট ইকুইটি যদি নেগেটিভ হয়, তাহলে ভ্যালুয়েশনও শূন্য হবে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, বিনিয়োগকারীরা জেনেশুনেই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেন। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো একীভূত না হলেও তাদের শেয়ার হয়তো খুবই কম দামে লেনদেন হতো। কারণ বছরের পর বছর দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অনেক বিনিয়োগকারী হয়তো ১৫ বা ২০ টাকায় শেয়ার কিনেছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় শেয়ারের মূল্য এক টাকা বা তারও নিচে নেমে আসতে পারত। বাস্তবতা হলো, নেগেটিভ ইকুইটির কারণে এসব শেয়ারের মূল্য থাকার কথা নয়।

অনুষ্ঠানে আরেক প্রশ্নের জবাবে তালিকাভুক্ত কিন্তু দীর্ঘদিন উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকা কোম্পানি এবং বন্ধ হওয়ার পথে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে একই ধরনের অবস্থানের কথা জানান তিনি।

মাসুদ খান বলেন, অনেক নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) এবং বন্ধ কোম্পানির আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। উদাহরণ হিসেবে তিনি ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ও পিপলস লিজিংয়ের নাম উল্লেখ করে বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদের তুলনায় দায় অনেক বেশি, ফলে তাদের নেট ইকুইটি শূন্যেরও নিচে নেমে গেছে।

তিনি ইঙ্গিত দেন, তালিকাভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আর্থিক মূল্য না থাকলে শুধু শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত থাকার কারণে বিনিয়োগকারীদের জন্য মূল্য সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হয় না। তাই শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আর্থিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে।

এমআর/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর