সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ

‘পর্ষদ গঠনে সময়ক্ষেপণে গ্রাহকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:২৮ পিএম

শেয়ার করুন:

‘পর্ষদ গঠনে সময়ক্ষেপণে গ্রাহকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে’

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনে দীর্ঘসূত্রতায় গ্রাহকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, তা না হলে গ্রাহকদের আস্থা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে ফোরামটি। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় প্রেসক্লাবের দিকে অগ্রসর হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, পরিচালনা পর্ষদ গঠনের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক একাধিকবার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বারবার সময়ক্ষেপণের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এবং আমানতের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

তিনি বলেন, চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে আপত্তির পর তা পরিবর্তন করা হলেও পরে পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে একজন নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে ব্যাংক পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের মতো বড় একটি ব্যাংক দীর্ঘ সময় একজন ব্যক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া সমীচীন নয়। তিনি পূর্বে দায়িত্ব পালন করা সৎ, দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের পাশাপাশি যোগ্য নতুন সদস্যদের সমন্বয়ে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানান।

2

সমাবেশে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮(ক) ধারা বাতিলের সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নুরুন্নবী মানিক বলেন, এটি দ্রুত সংসদে পাস করে আইনে পরিণত করতে হবে, যাতে ব্যাংক লুটেরাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কেউ ভবিষ্যতে কোনো ব্যাংকের পরিচালনায় থাকতে না পারেন।

তিনি আরও দাবি করেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর আরোপিত ‘হেয়ার কাট’ ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণার গেজেট দ্রুত প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগে অভিযুক্ত এস আলম গ্রুপসহ সংশ্লিষ্টদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ব্যাংকের ঋণের সঙ্গে সমন্বয় এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

ফোরামের সদস্য ইয়াসিন বলেন, পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পর এখনো নতুন পর্ষদ গঠন না হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তিনি ২০১৭ সালের আগে দায়িত্বে থাকা অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের পুনর্বহালের দাবি জানান।

তিনি আরও বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে, খেলাপি ঋণ আদায় জোরদার করতে হবে এবং এস আলম গ্রুপের শেয়ার ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ব্যাংকের পাওনা আদায়ে ব্যবহার করতে হবে।

সমাবেশ থেকে আগামী ১৪ জুলাই দেশের সব জেলা সদরে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান শাখার সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। দাবি পূরণ না হলে ১৮ জুলাই সারাদেশের গ্রাহকদের অংশগ্রহণে মহাসমাবেশ আয়োজনেরও ঘোষণা দেয় ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম।

টিএই/এএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর