বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

শেয়ারবাজারের পতনের কারণ ও সংস্কারে পদক্ষেপের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম

শেয়ার করুন:

শেয়ারবাজারের পতনের কারণ ও সংস্কারে পদক্ষেপের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

দেশের শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতনের কারণ এবং পুঁজিবাজার সংস্কারে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাজার কারসাজি, দুর্বল তদারকি, আইপিও ও বন্ড ইস্যুতে অনিয়ম এবং করপোরেট সুশাসনের ঘাটতির কারণে পুঁজিবাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমান সরকার সুষ্ঠু তদন্ত, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে।

বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী জানান, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির অভিযোগ ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান করেছে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে মামলাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বাজার কারসাজির দায়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এক হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করেছে। সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের তালিকা অধিকতর তদন্তের জন্য দুদকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার বাজারের পতনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে বাজার কারসাজি ও কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দর নিয়ন্ত্রণ, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) ও বন্ড ইস্যুতে অনিয়ম, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দীর্ঘদিন কার্যকর তদারকির অভাব, সময়মতো ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতা, করপোরেট সুশাসনের ঘাটতি, আর্থিক তথ্যের অস্বচ্ছতা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর স্বল্পতা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অসঙ্গতি পুঁজিবাজারে অস্থিরতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আরও পড়ুন

কৃষিতে এআইসহ আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের কাজ চলছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর ওপর সন্তুষ্ট দেশের ৭৫.৩ শতাংশ মানুষ: জরিপ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে সরকার নানা সংস্কারমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে দক্ষ ও অভিজ্ঞ চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ, বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার, লাভজনক সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিকে সরাসরি তালিকাভুক্ত করতে উৎসাহ দেওয়া এবং ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন ও এসএমই কোম্পানিকে বাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারপ্রধান জানান, বাজার কারসাজি রোধে তথ্যদাতার (হুইসেলব্লোয়ার) সুরক্ষা নিশ্চিত, অডিট ফার্মের জন্য প্যানেল নীতিমালা প্রণয়ন, ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স হ্রাস, লভ্যাংশ আয়ের ওপর দ্বৈত কর প্রত্যাহার, পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা দায়েরের বিধান এবং পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন ও বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে।

এছাড়া ব্লকচেইন প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) নজরদারি ব্যবস্থা চালু, ই-কেওয়াইসি ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন সহজীকরণ, বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল গঠন এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ট্রেজারি বন্ডের লেনদেন উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার শেয়ার বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর। সরকারের লক্ষ্য এমন একটি আধুনিক ও শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ে তোলা, যেখানে বিনিয়োগকারীদের সম্পদ নিরাপদ থাকবে এবং বাজারের প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

টিএই/জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর