মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

`কর বৃদ্ধির বদলে তামাক কোম্পানিকে মুনাফার সুযোগ দেওয়া হয়েছে'

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম

শেয়ার করুন:

কর বৃদ্ধির বদলে তামাক কোম্পানিকে মুনাফার সুযোগ দেওয়া হয়েছে
সংবাদ সম্মেলনে অর্থনীতিবিদ ও তামাকবিরোধী নেতারা। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের চূড়ান্ত বাজেটে তামাক করকাঠামো সংস্কার, সিগারেটের মূল্যস্তর কমানো এবং সব ধরনের তামাকপণ্যের দাম কার্যকরভাবে বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও তামাকবিরোধী নেতারা। তাদের মতে, কর বৃদ্ধি না করে শুধু দাম বাড়ানোর ফলে সরকার অতিরিক্ত রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, আর তামাক কোম্পানিগুলো বাড়তি মুনাফার সুযোগ পাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা) আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে দেশের মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ। একই সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৮৯ শতাংশ পর্যন্ত। অথচ বাজারের প্রায় ৭৫ শতাংশ দখলে থাকা নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বা শলাকাপ্রতি ২০ পয়সা।

তারা জানান, মধ্যম, উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের দাম যথাক্রমে ১৫ শতাংশ, ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ১৩ দশমিক ৫১ শতাংশ বাড়ানো হলেও করহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে বর্ধিত মূল্যের একটি অংশ সরাসরি তামাক কোম্পানির মুনাফায় যোগ হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, প্রিমিয়াম স্তরের প্রতি প্যাকেট সিগারেটের দাম ২৫ টাকা বাড়ানো হলেও এর মধ্যে ৪ টাকা ২৫ পয়সা কোম্পানির কাছে থেকে যাবে। কর বাড়িয়ে একই হারে মূল্য বৃদ্ধি করা হলে পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হতো।

বক্তারা আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে বিড়ি, জর্দা ও গুলের দাম এবং করহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের মাধ্যমে নতুন ধরনের তামাকপণ্যকে কার্যত বৈধতা দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক বলেন, সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করে প্রতি ১০ শলাকার খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ এবং বিদ্যমান শুল্কের সঙ্গে সব স্তরে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ করা হলে সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং জনস্বাস্থ্যও সুরক্ষিত হবে।

ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আকতার মালা বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সব ধরনের তামাকপণ্যের দাম বাড়িয়ে তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যেতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ২০ শলাকার ফিল্টারযুক্ত ও ফিল্টারবিহীন বিড়ির অভিন্ন মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ এবং ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়। একই সঙ্গে জর্দা ও গুলের ক্ষেত্রে যথাক্রমে প্রতি ১০ গ্রামে ৬০ টাকা ও ৩০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া সব তামাকপণ্যের ওপর বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার আহ্বান জানানো হয়।

প্রজ্ঞার পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের প্রস্তাবিত কর ও মূল্যকাঠামো বাস্তবায়ন করা হলে ধূমপানের হার কমার পাশাপাশি সরকারের অতিরিক্ত ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৪ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান ত্যাগে উৎসাহিত হবে এবং ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে।

আত্মার কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের হেড অব অনলাইন (বাংলা) মো. মনির হোসেন লিটন, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট আয়েশা সুহায়মা রব, আত্মার কনভেনর মতুর্জা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর মিজান চৌধুরী এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের।

প্রস্তাবিত বাজেটের বিশ্লেষণ ও দাবিগুলো তুলে ধরেন প্রজ্ঞার হেড অব প্রোগ্রামস হাসান শাহরিয়ার।

এমএইচ/এম/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর