বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ঢাকা

লিফটকে পুনরায় মূলধনী যন্ত্রপাতি ঘোষণা-শুল্ক যৌক্তিকীকরণের দাবি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম

শেয়ার করুন:

লিফটকে পুনরায় মূলধনী যন্ত্রপাতি ঘোষণা-শুল্ক যৌক্তিকীকরণের দাবি

দেশের আবাসন, শিল্প ও অবকাঠামো খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে লিফট ও এস্কেলেটরকে পুনরায় মূলধনী যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারিজ) হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ এলিভেটর, এস্কেলেটর অ্যান্ড লিফট ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেলিয়া)। একই সঙ্গে খাতটির বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করার তাগিদ দিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার (১৭ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী নেতারা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চূড়ান্ত বাজেটে তাদের এসব দাবি বিবেচনা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।


বিজ্ঞাপন


সংবাদ সম্মেলনে বেলিয়ার সভাপতি মো. শফিউল আলম উজ্জ্বল বলেন, বর্তমান নগরায়ণ, বহুতল ভবন নির্মাণ, শিল্পায়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে লিফট কোনো বিলাসবহুল পণ্য নয়; বরং এটি টেকসই উন্নয়নের অন্যতম অপরিহার্য মূলধনী যন্ত্রপাতি। কিন্তু ২০২৩ সালে লিফটকে মূলধনী যন্ত্রপাতির শ্রেণি থেকে সরিয়ে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এরপর ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছরে ধারাবাহিকভাবে এ খাতের শুল্ক বাড়ানো হয়। এর ফলে গত দুই বছরে লিফট আমদানির ওপর মোট শুল্কহার প্রায় ১১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

বেলিয়ার সভাপতি আরও বলেন, শুল্ক বৃদ্ধির কারণে আবাসন শিল্পসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে নির্মাণব্যয় বেড়েছে। অনেক লিফট কোম্পানি ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হওয়ায় বহু মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের দায় শেষ পর্যন্ত ফ্ল্যাটের প্রতি বর্গফুটের মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ ক্রেতার ওপর গিয়ে পড়ছে। ফলে মধ্যবিত্তের নিজস্ব আবাসনের স্বপ্ন ক্রমশ অধরা হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া শুল্ক ও করের অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেক ক্ষেত্রে কম খরচে নিম্নমানের বা পুনর্নিমিত (রিকন্ডিশনড) লিফট ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে, যা জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে কিছু দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

>লিফট ও এস্কেলেটরকে পুনরায় মূলধনী যন্ত্রপাতি হিসেবে ঘোষণা করা।


বিজ্ঞাপন


>লোড ফ্যাক্টর প্রতি কেজি ৩ মার্কিন ডলার থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৫০ ডলার নির্ধারণ করা।

>স্থানীয় উৎপাদনের নামে আমদানিকৃত কাঁচামালের অপব্যবহার রোধে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা।

​>বন্দর পর্যায়ে স্কেলিং, মূল্যায়ন ও খালাস (ক্লিয়ারিং) প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজীকরণ করা।

>আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরাপদ লিফট আমদানির জন্য শুল্ক ও কর কাঠামোর যৌক্তিক সংস্কার করা।

এসব দাবির বিষয়ে বেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক ইয়াদুল হক বলেন, বাজেট পেশের আগেও আমরা সরকারের কাছে এসব দাবি জানিয়েছিলাম, তবে কোনো সুফল পাইনি। আমরা আশা করছি, চূড়ান্ত বাজেটে আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো বিবেচনা করা হবে। শুল্ক যৌক্তিকীকরণ করা হলে সাশ্রয়ী মূল্যে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, নিরাপদ ও টেকসই লিফট আমদানি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দেশের পরিকল্পিত নগরায়ণ, স্মার্ট সিটি বিনির্মাণ এবং নিরাপদ অবকাঠামো উন্নয়নের স্বার্থে লিফট খাতের প্রতি সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। বিগত সময়ে এ খাতটি অবহেলার শিকার হয়েছে। শুল্ক ও কর বাড়ানোর কারণে গত তিন বছরে একটি ছোট লিফটের দাম প্রায় ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। লিফটের ওপর অযৌক্তিক শুল্ক আরোপের ফলে বহুতল ভবনে লিফট স্থাপনের ব্যয় বাড়ছে, যা আবাসন খাতের খরচ বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

বেলিয়ার উপদেষ্টা এমদাদ উর রহমান বলেন, প্রায় ৩৫ বছর ধরে লিফট মূলধনী যন্ত্রপাতি হিসেবে গণ্য হচ্ছিল। কিন্তু তিন বছর আগে কেন হঠাৎ এটিকে বিলাসী পণ্যের তালিকায় নেওয়া হলো, তা আমাদের বোধগম্য নয়। বর্তমানে আমরা একটি গণতান্ত্রিক সরকার পেয়েছি; আশা করছি আমাদের এই ন্যায্য দাবি পূরণ হবে।

দেশে ভূমির স্বল্পতার কারণে কলকারখানা, হাসপাতাল থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—সবখানেই বহুতল ভবন নির্মাণ করতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৃদ্ধ, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিদের যাতায়াতের কথা বিবেচনা করলে লিফট কোনোভাবেই বিলাসী পণ্য হতে পারে না।

সংবাদ সম্মেলনে বেলিয়ার নেতারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার লিফট খাতের যৌক্তিক দাবিগুলো বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে, যা দেশের আবাসন, শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

টিএই/এএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর