আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নির্ধারিত রাজস্ব আহরণের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রহমান। তার মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় প্রায় দ্বিগুণ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য কতটা বাস্তবসম্মত, সে বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: অসুবিধাগ্রস্ত মানুষের জন্য কী আছে?’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
রিজওয়ান রহমান বলেন, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকা। অথচ নতুন বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ এক অর্থবছরের ব্যবধানে প্রায় শতভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, অর্থনীতিতে এমন কী পরিবর্তন এসেছে, যার ভিত্তিতে এই বিশাল রাজস্ব প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করা হচ্ছে? বিষয়টি অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
বাজেটকে বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য কার্যকর ও সুস্পষ্ট রূপরেখার ঘাটতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিশেষ করে করজালের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি করেন সাবেক এই ব্যবসায়ী নেতা।
দেশের কর কাঠামোয় বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরে রিজওয়ান রহমান বলেন, সরকারের তথ্য অনুযায়ী মোট কর রাজস্বের প্রায় ৯৬ শতাংশ আসে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে। এর মধ্যে প্রায় ৭৪ শতাংশই আদায় হয় শুধু ঢাকা থেকে। ফলে একই করদাতাদের ওপর বারবার চাপ বাড়ানো হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক নয়।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, যেখানে করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজন, সেখানে বিদ্যমান করদাতাদের ওপরই বেশি চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এটিকে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বলা কঠিন।
বাজেট ঘাটতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি। তিনি বলেন, প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকার বাজেট ঘাটতি কীভাবে অর্থায়ন করা হবে, সে বিষয়েও পরিষ্কার দিকনির্দেশনা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। আলোচনা সঞ্চালনা করেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান।
এতে আরও বক্তব্য দেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির এবং কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া।
এমআর/এফএ




