রোববার, ১৪ জুন, ২০২৬, ঢাকা

বন্ড সুবিধা সম্প্রসারণে গতি পাবে রফতানি ও স্থানীয় শিল্প: এনবিআর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম

শেয়ার করুন:

বন্ড সুবিধা সম্প্রসারণে গতি পাবে রফতানি ও স্থানীয় শিল্প: এনবিআর

ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণমুক্ত (ডিরেগুলেশন) পরিবেশ গড়ে তুলতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধার আওতা সম্প্রসারণ করায় রফতানিমুখী শিল্প ও দেশের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাত নতুন গতি পাবে।
 
রোববার (১৪ জুন) রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘অর্থবিল ২০২৬-২৭-এর বিশ্লেষণ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান এসব বলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এতদিন যেসব রফতানিকারকের নিজস্ব বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ছিল না, তারা বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহে নানা জটিলতার সম্মুখীন হতেন। নতুন বাজেটে সেই সীমাবদ্ধতা দূর করা হয়েছে। এখন বন্ড সুবিধাবিহীন রফতানিকারকরাও বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করতে পারবেন। 


বিজ্ঞাপন


আবদুর রহমান খান বলেন, পোশাক খাতসহ বিভিন্ন রফতানি খাতের উদ্যোক্তারা দীর্ঘদিন ধরে এ সুবিধার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় কাঁচামাল উৎপাদনকারী শিল্পগুলো উপকৃত হবে এবং দেশের শিল্পভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।

আবদুর রহমান খান জানান, আগে কন্টিনিউয়াস বন্ড সুবিধা সীমিত পরিসরে ছিল। অন্য প্রতিষ্ঠানের জন্য কাঁচামাল আমদানি করতে হলে সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটের অনুমোদন প্রয়োজন হতো। নতুন ব্যবস্থায় সেই সুবিধা আন্তঃকমিশনারেট পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যা ব্যবসা পরিচালনাকে আরও সহজ করবে। তিনি বলেন, অতীতে মাত্র কয়েকটি নির্দিষ্ট খাত বন্ড সুবিধা পেত। এখন যে কোনো খাতের উদ্যোক্তা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে আবেদন করলে বন্ড লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ থাকবে।


বিজ্ঞাপন


বন্ড লাইসেন্স নিতে অনাগ্রহী ব্যবসায়ীদের জন্যও নতুন সুযোগ রাখা হয়েছে উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে তারা শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি করতে পারবেন। এতে রপ্তানিমুখী ব্যবসা আরও সম্প্রসারিত হবে।

অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর (এইও) সুবিধা নিয়ে সংস্কারের কথা তুলে ধরে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, দ্রুত পণ্য খালাস ও সহজ বাণিজ্য পরিচালনার জন্য এ সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ। তবে অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান আবেদন করছিল না। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অডিট রিপোর্টের শর্ত শিথিল করা হয়েছে, যাতে আরও বেশি ব্যবসায়ী এ সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বন্ড ব্যবস্থাপনা, শুল্ক প্রক্রিয়া ও বাণিজ্য সুবিধা সম্প্রসারণে একগুচ্ছ সংস্কার আনা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ বিনিয়োগ ও রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও সহজ, দ্রুত ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম। অনুষ্ঠানে এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (মূসক) বদরউদ্দিন মুন্সী, কাস্টমস নীতির প্রথম সচিব তারেক হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
 
এমআর/ক.ম  

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর