পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টরস অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমআইএ)। সংগঠনটির নেতাদের অভিযোগ, সদ্য বিদায়ী বিএসইসি কমিশনের প্রণীত এ বিধিমালা বাস্তবায়ন হলে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাত ও সামগ্রিক পুঁজিবাজার বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এতে বিসিএমআইএর সভাপতি এসএম ইকবাল হোসেনসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বিদায়ী কমিশন মিউচ্যুয়াল ফান্ড, মার্জিন ঋণ ও প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাদের দাবি, মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ কার্যকর হলে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পুরো বাজারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তারা বলেন, নতুন বিধিমালার আওতায় বিদ্যমান মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোকে অবসায়ন বা পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় আনার সুযোগ রাখা হয়েছে। এতে একদিকে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে, অন্যদিকে বাজারে অতিরিক্ত শেয়ার সরবরাহ তৈরি হয়ে মূল্যসূচকের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিপুল সংখ্যক কর্মীর কর্মসংস্থানও হুমকির মুখে পড়বে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, দুই-তৃতীয়াংশ ইউনিটধারীর ভোটে ফান্ড রূপান্তর বা অবসায়নের বিধান রাখা হলেও যারা ফান্ড চালু রাখার পক্ষে, তাদের জন্য কোনো পৃথক বিকল্প রাখা হয়নি। ফলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত হওয়ার সুযোগ সীমিত হয়েছে।
তাদের মতে, বড় আকারের মিউচ্যুয়াল ফান্ড পোর্টফোলিও একযোগে অবসায়ন বা বাধ্যতামূলক পুনর্গঠনের আওতায় এলে বাজারে বিক্রির চাপ বাড়বে। এতে শেয়ারদর কমে যাওয়ার পাশাপাশি আরও অনেক বিনিয়োগকারী বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।
বিজ্ঞাপন
সংগঠনটির নেতারা বলেন, নতুন কমিশনের উচিত হবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সর্বপ্রথম মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ পুনর্বিবেচনা করা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
সংবাদ সম্মেলনে তারা পুঁজিবাজারে অতীতের অনিয়ম ও ব্যর্থতার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর নীতি প্রণয়ন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি, বিতর্কিত নীতিমালা স্থগিত, একীভূত পাঁচ ব্যাংকের বিনিয়োগকারীদের অধিকার নিশ্চিত এবং বাজার কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের দাবি জানান।
টিএই/ক.ম




