শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ঢাকা

বন্ধ শিল্প পুনরুজ্জীবনে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম

শেয়ার করুন:

রাজধানীতে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

দেশের বন্ধ শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রাক-অর্থায়ন স্কিম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রফতানি সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া এ উদ্যোগের আওতায় আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সহায়তা দেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা জারি করেছে। ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’ নামে গঠিত এ তহবিল থেকে বিশেষভাবে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।


বিজ্ঞাপন


নীতিমালা অনুযায়ী, তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য ব্যবহার করে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক স্বল্প সুদে ব্যাংকগুলোর কাছে অর্থ সরবরাহ করবে। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো যাচাই-বাছাই করে যোগ্য শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেবে।

দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক এ স্কিমে অংশ নিতে পারবে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অংশগ্রহণ চুক্তি করতে হবে। স্কিমটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন বছর।

এ সুবিধা পাবে বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের এমন প্রতিষ্ঠান, যেগুলো আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে অথবা ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের সংকটে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। এছাড়া দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কোনো বন্ধ শিল্প অধিগ্রহণ করে পুনরায় চালু করলে সেই প্রতিষ্ঠানও এ সুবিধার আওতায় আসতে পারবে।

ঋণ অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সক্ষমতা, বন্ধ হওয়ার কারণ, বাজার পরিস্থিতি এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করতে হবে। প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে মূল্যায়ন প্রতিবেদনও সংগ্রহ করতে হবে।


বিজ্ঞাপন


তবে খেলাপি ঋণগ্রহীতা, অর্থপাচার কিংবা জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ স্কিমের আওতায় ঋণ সুবিধা পাবে না।

স্কিমের অর্থ শ্রমিকদের বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল পরিশোধ, কাঁচামাল সংগ্রহ, উৎপাদন ব্যয় নির্বাহ এবং রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়নে ব্যবহার করা যাবে। শ্রমিকদের বেতন বাবদ সর্বোচ্চ চার মাসের অর্থ দেওয়া যাবে এবং তা সরাসরি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়ী গোষ্ঠী সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে। প্রতিটি ঋণের মেয়াদ হবে এক বছর। তবে সন্তোষজনক কার্যক্রমের ভিত্তিতে ঋণের মেয়াদ নবায়ন করা যাবে।

ব্যাংক পর্যায়ে এ তহবিলের সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ। ঋণ বিতরণের পর প্রথম ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে গণ্য হবে। এরপর থেকে সুদ আদায় শুরু হবে।

ঋণ বিতরণ ও আদায় কার্যক্রমে কঠোর নজরদারির কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নিয়মিত প্রতিবেদন সংগ্রহের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সরেজমিন পরিদর্শন করা হবে। ঋণের অপব্যবহার বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো নিজস্ব বিনিয়োগ পদ্ধতিতে এ স্কিম বাস্তবায়ন করতে পারবে। প্রয়োজনে স্কিমের শর্ত ও বিধান সংশোধনের ক্ষমতাও বাংলাদেশ ব্যাংক সংরক্ষণ করেছে।

টিএই/ক.ম 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর