ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সাভারের চামড়াশিল্প নগরীতে আসা অব্যাহত রয়েছে। ঈদের দিন থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সেখানে পৌঁছেছে ৫ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৫টি চামড়া। এর মধ্যে গরু ও মহিষের ৫ লাখ ১১ হাজার ৭০০টি এবং ছাগল-ভেড়ার ১৬ হাজার ১৭৫টি।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে মোট ১ হাজার ৭১৩টি চামড়াবাহী ট্রাক শিল্পনগরীতে প্রবেশ করেছে। রাজধানী ও আশপাশের এলাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসব চামড়া এসেছে।
বিজ্ঞাপন
বিসিক চামড়াশিল্প নগরীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাঈয়ান বলেন, সংগ্রহ ও পরিবহনের পুরো প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. শওকত উল্লাহ বলেন, সংগ্রহ করা চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ শুরু হবে। এবার কোরবানির মৌসুমে ৭৫ থেকে ৮০ লাখ পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে ট্যানারি মালিকদের।
এদিকে ঈদের দিনের তুলনায় রাজধানীতে কাঁচা চামড়ার দাম কিছুটা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়া এবং তুলনামূলক ভালো মানের বড় আকারের চামড়া বেশি আসায় বাজারে এ পরিবর্তন এসেছে।
আরও পড়ুন: বর্জ্য নয়, রফতানি পণ্য: গরুর বিশেষ অঙ্গের বাড়ন্ত বাজার
বিজ্ঞাপন
ধানমন্ডি, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, লালবাগ ও পোস্তাসহ বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি আকারের গরুর চামড়া ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং বড় আকারের চামড়া ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। ঈদের দিন একই ধরনের চামড়া বিক্রি হয়েছিল যথাক্রমে ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকা এবং ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। তবে ছাগলের চামড়া ও ছোট আকারের গরুর চামড়ার দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।
তবে দাম কিছুটা বাড়লেও তা এখনো সরকার নির্ধারিত দরের নিচে রয়েছে। চলতি বছর ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম গত বছরের তুলনায় ২ টাকা বাড়ানো হলেও ঈদের দিন সেই দরে বিক্রি হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে গত বছরের তুলনায় প্রতি পিসে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কম দাম পেয়েছেন বিক্রেতারা।
রাজধানীর বাইরে অনেক এলাকায় কম দামের কারণে কিছু ব্যবসায়ী অবিক্রীত চামড়া ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গেছে।
গতকাল রাজধানীর পোস্তা এলাকায় চামড়া বেচাকেনা পরিদর্শন শেষে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চামড়া খাতের উন্নয়ন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি সম্প্রসারণে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত রোডম্যাপ আগামী জুলাইয়ের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।
তিনি বলেন, সাভারের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারসহ (সিইটিপি) বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা দূর করা এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা গেলে দেশের চামড়া শিল্পে টেকসই প্রবৃদ্ধির সুযোগ আরও বাড়বে।
এআর




