পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র তিন দিন বাকি। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বড় এই ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে সারাদেশে চলছে প্রস্তুতি। ঈদুল আজহার প্রধান ইবাদত কোরবানি হওয়ায় পশু কেনাকাটায় এখন নগদ টাকার চাহিদা বেড়েছে ব্যাপকভাবে। এর প্রভাব পড়েছে রাজধানীর ব্যাংক শাখাগুলোতেও। ঈদের আগে রোববার ছিল শেষ কর্মদিবস। এদিন বিভিন্ন ব্যাংকের শাখায় টাকা উত্তোলনে গ্রাহকদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে।
সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন ব্যাংকের কাউন্টারগুলোতে ছিল গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন। ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, এদিন জমার তুলনায় টাকা উত্তোলনের পরিমাণ ছিল অনেক বেশি।
বিজ্ঞাপন
অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন বলেন, আজ গ্রাহকদের মধ্যে টাকা উত্তোলনের প্রবণতাই বেশি দেখা গেছে। জমা দেওয়ার তুলনায় উত্তোলনের সংখ্যাই ছিল অনেক বেশি।
একই চিত্রের কথা জানান সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা মনির হোসাইন। তিনি বলেন, কোরবানির আগে অনেক গ্রাহকের নগদ টাকার প্রয়োজন হয়। কেউ পশু কেনার জন্য টাকা তুলছেন, আবার কেউ নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও বোনাস দেওয়ার জন্য টাকা উত্তোলন করছেন। তবে জমাও হচ্ছে, যদিও তার পরিমাণ তুলনামূলক কম।
রূপালী ব্যাংকের গ্রাহক আহসান হাবিব জানান, আগামীকাল বা পরশু পশুর হাটে গিয়ে কোরবানির গরু কিনবেন। এজন্য নগদ টাকার প্রয়োজন। পাশাপাশি ছেলে-মেয়ে ও নাতি-নাতনিদের সালামি দেওয়ার জন্যও টাকা তুলতে ব্যাংকে এসেছেন তিনি।
অগ্রণী ব্যাংকের আরেক গ্রাহক হাফিজুর রহমান বলেন, আজ পরিবার নিয়ে বাসার কাছের পশুর হাটে যাব। দরদাম ঠিক হলে আজই পশু কিনব। তাই আগে ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে এসেছি। এসে দেখি আমার মতো অনেকেই টাকা উত্তোলনের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। তবে জমা দেওয়ার কাউন্টারগুলো তুলনামূলক ফাঁকা।
বিজ্ঞাপন
>> আরও পড়ুন
সোনালী ব্যাংকের গ্রাহক শফিক ইসলাম বলেন, আমার একটি ছোট প্রতিষ্ঠান আছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ও বেতন পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি কোরবানির জন্য গরুও কিনতে হবে। সব মিলিয়ে নগদ টাকার প্রয়োজন হওয়ায় ব্যাংকে এসেছি।
তবে উত্তোলনের ভিড়ের মধ্যেও কেউ কেউ টাকা জমা দিতেও এসেছেন। এমনই একজন গ্রাহক মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, আমার ও আমার স্ত্রীর ডিপোজিট হিসাব আছে। মাস শেষে টাকা খরচ হয়ে যেতে পারে, তাই হাতে থাকা কিছু টাকা জমা দিতে এসেছি।
টিএই/এএস




