# এখনো জমে ওঠেনি বেচাকেনা
# ক্রেতারা আসছেন, দেখছেন, দাম জেনে চলে যাচ্ছেন
বিজ্ঞাপন
# ক্রেতাদের দেওয়া দাম বেপারীদের প্রত্যাশার তুলনায় কম
# হাটে দেশি মাঝারি গরুর সংখ্যাই বেশি
# হাসিলঘরগুলো ফাঁকা
ট্রাকে করে পশু আসছে, সেগুলো নামিয়ে হাটে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্রেতারাও আসছেন। তবে হাটে আসা অধিকাংশ ক্রেতাই দরদাম জিজ্ঞেস করলেও পশু কিনছেন না। ফলে হাট শুরুর চার দিন পার হলেও বিক্রি জমেনি।
বিজ্ঞাপন
তবে হাট কর্তৃপক্ষ ও বেপারীরা বলছেন, আগামী সোমবার থেকে হাট জমে উঠবে। ঢাকার অদূরে আঁটিবাজারের পাশে মধুসিটির বিপরীতে মিলেনিয়াম সিটিতে বসা পশুর হাট ঘুরে ক্রেতা, বিক্রেতা, গরু বেপারী ও হাট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত ২০ মে থেকে হাট শুরু হলেও এখনো জমেনি। বসিলা থেকে হাটটির দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার। ঘাটারচর থেকে আধা কিলোমিটার গেলেই ডান পাশে বড় গেটে লেখা সুলতানি হাট—যা কয়েক বছর ধরেই বসছে। হাট শুরুর চার দিন পর আজই সবচেয়ে বেশি লোকজন দেখা গেছে।
গরুও উঠেছে তুলনামূলক বেশি। গরু রাখার জায়গাগুলো ত্রিপল ও সামিয়ানা দিয়ে ঢেকে রোদ-বৃষ্টি থেকে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। ট্রাক ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন হাটে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। পাবনা থেকে আসা রমজান আলী ১৪টি গরু নিয়ে এসেছেন।
তিনি জানান, হাট শুরুর দিন থেকেই ক্রেতারা শুধু আসছেন, দেখছেন এবং চলে যাচ্ছেন। দরদাম করলেও গরু কিনছেন না। তার ভাষায়, এভাবে রোববার পর্যন্ত চলবে। আসল হাট শুরু হবে সোমবার। এরপর টানা দুই দিন হাট জমে উঠবে। কারণ ২৮ মে ঈদুল আজহা। ফলে তিন দিনের মধ্যেই গরু বিক্রি শেষ হয়ে যাবে বলে তার আশা।
অন্যদিকে নওগাঁ থেকে আসা আসিফ দুই ট্রাক গরু নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, এখনো গরু বিক্রি হয়নি একটিও। তবে আশা করছি, দুই দিন পর হাট জমে উঠবে। না হলে সোমবার পুরোপুরি জমবে। তিনি বলেন, এবার ক্রেতারা আসছেন, দামও জিজ্ঞেস করছেন, কিন্তু সেই দামের কাছাকাছিও যাচ্ছে না। তিনি জানান, প্রতিটি গরু কেনা পড়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকার মধ্যে। ফলে যে গরু দুই লাখের নিচে কেনা, সেটি অন্তত দুই লাখ বা তার ওপরে বিক্রি না করলে পোষাবে না। আর যে গরু তিন লাখের কাছাকাছি কেনা, সেটি তিন লাখের ওপরে ছাড়া বিক্রি করা কঠিন। ফলে ক্রেতাদের প্রস্তাবিত দাম অনেক কম। তবে তিনি হতাশ নন; শেষ তিন দিনে ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন।
কুষ্টিয়া থেকে আসা শফিকুল ইসলাম বলেন, ক্রেতারা শুধু দেখছেন। কেউ কেনার কথা বলছেন না। তাই অপেক্ষা করছি, কেনার মতো ক্রেতা পাওয়া যায় কি না। পুরো হাটে মাত্র চারটি হাসিলঘর দেখা গেছে। তবে এর মধ্যে দুটি ঘর ফাঁকা ছিল। অন্য দুটিতে থাকা লোকজন জানান, শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত মাত্র ছয়টি গরু বিক্রি হয়েছে।
গত তিন দিনে কোনো গরুই বিক্রি হয়নি। তবে তারা আশাবাদী, রোববার থেকে হাটে বিক্রি জমে উঠবে। অন্যদিকে বেপারীরা বলছেন, সোমবারের আগে হাট জমবে না।
রবিউল নামে এক নিরাপত্তাকর্মী জানান, এ বছর বসিলা হাট বসছে না। ফলে সেই হাটের গরুগুলোও এখানে আসছে। এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। তারা আশা করছেন, রোববার থেকেই হাট পুরো দমে শুরু হবে।
হাটে আসা ক্রেতা সুজন মাহমুদ বলেন, গত কয়েক বছর ধরে এ হাটে আসছি। কিন্তু এবার এখনো হাট জমেনি, বিষয়টি কেমন লাগছে। তিনি জানান, এবার মাঝারি গরুই বেশি। বড় দেশি গরু তুলনামূলক কম। এখনো গরু কেনেননি, কারণ দাম যাচাই করছেন। যাচাই-বাছাই করে তিনি সোম বা মঙ্গলবারের দিকে কেনার পরিকল্পনা করছেন।
আঁটিবাজার থেকে পরিবারসহ হাটে এসেছেন আসলাম হাকিম। তিনি বলেন, বউ-বাচ্চারা প্রতি বছর হাটে আসতে চায়। এবার তাই নিয়ে এসেছি। ওদেরও শখ আছে। তবে কয়েকদিন পর গরু কিনব। আজ শুধু দেখে যাচ্ছি।
কুষ্টিয়া থেকে আসা বেপারী নজরুল বলেন, আমরা যে দাম চাইছি, ক্রেতারা তার ধারেকাছেও যাচ্ছে না। ফলে চার দিনেও একটি গরুও বিক্রি হয়নি। দেখা যাক আগামীকাল কী হয়।
পুরো হাট ঘুরে দেখা যায়, দেশি গরুর সংখ্যাই বেশি। হাট শুরুর চার দিন হলেও এখনো নতুন নতুন জায়গায় তাঁবু টানানো হচ্ছে। বেপারীরা ট্রাক থেকে গরু নামিয়ে সরাসরি শেডে নিচ্ছেন। কেউ কেউ গরুর পরিচর্যায় ব্যস্ত। শুক্রবার হওয়ায় পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও হাটে এসেছেন।
বসিলা থেকে আসা রোজিনা, রুবিনা ও রুবি নামে তিন বোন বলেন, প্রতি বছর বাবা গরু কিনে নিয়ে যান। আমরা শুধু দেখি। এবার সরাসরি হাটে এসেছি। গরু দেখতে ভালোই লাগছে। কীভাবে গরু বিক্রি হয়, দরদাম কীভাবে করতে হয়, গরু কেমন, বেপারীরা কেমন, গরুকে কী খাওয়ানো হয়—এসব সরাসরি দেখে ভালো লাগছে। তবে ভয়ও লাগছে, কখন গরু পেছন থেকে এসে ধাক্কা মারে।
হাটটি রাস্তার পাশে হওয়ায় অল্পতেই সড়কে যানজট তৈরি হচ্ছে। তবে যানজট নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে স্বেচ্ছাসেবীদের। পুরো হাটে লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ।
এমআইকে/এআর




