বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ এখন আর কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়; বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানী একটি হোটেলে ‘রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট ফর রেসিলিয়েন্ট সাপ্লাই চেইন্স অ্যান্ড ট্রেড কম্পিটিটিভনেস’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ব্যবস্থার দ্রুত পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় বাংলাদেশ একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। শক্তিশালী রফতানি প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সক্ষমতার মাধ্যমে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা শুধু উৎপাদন ব্যয়ের ওপর নির্ভর করবে না; বরং নির্ভর করবে টেকসই উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, শ্রমমান, পরিবেশগত দায়বদ্ধতা এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক চর্চার ওপর।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রেতা, বিনিয়োগকারী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং ভোক্তারা সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরে পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসন এবং ডিউ ডিলিজেন্স প্রক্রিয়ার ওপর অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে টেকসই উন্নয়নসংক্রান্ত নতুন বিধিবিধান ও প্রত্যাশা বাড়ছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে এখন কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, সুশাসন এবং জলবায়ু ও টেকসই উন্নয়নসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহে দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক চর্চা শক্তিশালী করা গেলে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ একটি দায়িত্বশীল ও প্রতিযোগিতামূলক উৎস দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এতে উচ্চমূল্যের ও উদীয়মান বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়বে, টেকসই ও গুণগত বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পাবে।
সরকার টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দায়িত্বশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণসংক্রান্ত নীতি সমন্বয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার গুরুত্ব অনুধাবন করে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সবুজ শিল্পচর্চার সম্প্রসারণসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও সংকলন, টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদন উদ্যোগ এবং পরিবেশ ও সামাজিক কমপ্লায়েন্স কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণকেন্দ্রিক একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করবে এবং নীতিগত নির্দেশনা, সচেতনতা বৃদ্ধি ও সক্ষমতা উন্নয়নে সহায়তা করবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দায়িত্বশীল ও টেকসই ব্যবসায়িক চর্চায় রূপান্তর কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য সরকার, বেসরকারি খাত, শিল্প সমিতি, উন্নয়ন সহযোগী এবং সুশীল সমাজের সম্মিলিত সহযোগিতা জরুরি। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এমন একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে বড় ও ছোট সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধাপে ধাপে দায়িত্বশীল চর্চা গ্রহণ করতে পারবে এবং একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম হবে।’
অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং বাংলাদেশে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য বাণিজ্যমন্ত্রী ইউএনডিপি এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারকে ধন্যবাদ জানান।
সংলাপে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান, ইউএনডিপির ডেপুটি কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ সোনালি দায়ারাত্নে এবং কান্ট্রি ইকোনমিক অ্যাডভাইজার ওয়াইস পেরি। অনুষ্ঠানে কী নোট পেপার উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ।
এমআর/এমআই




