দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণে মিশ্র ও টেকসই অর্থায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতায় টেকসই অর্থায়ন এখন শুধু একটি বিকল্প নয়, বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভবিষ্যতমুখী অর্থনৈতিক কাঠামো গঠনের অপরিহার্য উপাদান।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স সামিট ২০২৬’-এ বক্তারা এসব বলেন।
বিজ্ঞাপন
দেশে টেকসই অর্থায়নের বাজার সম্প্রসারণ এবং মিশ্র অর্থায়ন (ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্স) সংগ্রহের লক্ষ্যে দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করে ম্যানেজমেন্ট কনসালটিং প্রতিষ্ঠান লাইটক্যাসল পার্টনার্স। এতে সহযোগিতা করে বাংলাদেশস্থ সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, ইউএন ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইউএনসিডিএফ), নেদারল্যান্ডসভিত্তিক ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রতিষ্ঠান ট্রুভ্যালু বাংলাদেশ এবং স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড।
সম্মেলনে জানানো হয়, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালে টেকসই অর্থায়নের বাজার ৯১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে এবং ২০২৬ সালে তা ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। বাংলাদেশের বাজারেও এর ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে দেশে টেকসই অর্থায়নের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংলি। সম্মানিত অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এটুআই প্রকল্পের প্রধান প্রযুক্তি উপদেষ্টা মাসুদ রহমান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত রেতো রেংলি বলেন, ‘টেকসই অর্থায়ন এখন আর কোনো ছোট এজেন্ডা নয়। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে এটি অপরিহার্য।’ তিনি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
বিজ্ঞাপন
মাসুদ রহমান বলেন, ‘দেশ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি এবং টেকসই অর্থায়নকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করাকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।’
সম্মেলনে ‘প্রতিশ্রুতি থেকে প্রকল্পে: টেকসই অর্থায়নে পরবর্তী ট্রিলিয়ন অবমুক্তকরণ’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লাইটক্যাসল পার্টনার্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিজন ইসলাম। তিনি বলেন, টেকসই অর্থায়নের পরবর্তী ধাপ নির্ভর করবে এমন একটি সমন্বিত বিনিয়োগ কাঠামো গড়ে তোলার ওপর, যা বেসরকারি পুঁজিকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হবে। এজন্য বিনিয়োগ-উপযোগী শক্তিশালী পাইপলাইন, কাঠামোগত উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সম্মেলনে তিনটি প্যানেল আলোচনায় টেকসই অর্থায়ন, ইএসজি ক্যাপিটাল স্ট্যাক, করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) এবং ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টিংয়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এতে অংশ নেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল হাই, ব্রামার অ্যান্ড পার্টনার্সের ঊর্ধ্বতন পরিচালক কেরি ব্রিন, সাউথ এশিয়া টেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজাত চৌধুরি এবং ইনফিউশন পার্টনার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাবিলা নওরীনসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা।
সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল নতুন দুটি বিনিয়োগ তহবিল— ‘ওআরই-২ ফান্ড’ এবং ‘বাংলাদেশ ইমপ্যাক্ট ফান্ড’-এর ঘোষণা। লাইটক্যাসল পার্টনার্সের সিইও বিজন ইসলাম এবং ট্রুভ্যালু বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শারাওয়াত ইসলাম যৌথভাবে তহবিল দুটির উদ্বোধন করেন। দেশের সম্ভাবনাময় ক্ষুদ্র ও ক্রমবর্ধমান ব্যবসাগুলোর জন্য সহজলভ্য মূলধন নিশ্চিত করাই এ তহবিলের প্রধান লক্ষ্য বলে জানানো হয়।
দিনব্যাপী এ সম্মেলনে নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা, অর্থায়নকারী ও সংশ্লিষ্ট ইকোসিস্টেমের ২০০ জনের বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন।
টিএই/ক.ম




