বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ঢাকা

আসন্ন বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তর কমিয়ে কার্যকর করারোপের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২৬, ০৫:২১ পিএম

শেয়ার করুন:

আসন্ন বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তর কমিয়ে কার্যকর কর আরোপের দাবি
বাজেটে তামাকজাত পণ্যে করারোপ ও মূল্য বৃদ্ধির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, তামাকের ব্যবহার হ্রাস এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তরের সংখ্যা কমিয়ে সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি চালু এবং সব ধরনের তামাকপণ্যে কার্যকর কর আরোপের দাবি জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাঁরা বলেছেন, প্রস্তাবিত কর সংস্কার বাস্তবায়িত হলে একদিকে তামাকের ব্যবহার কমবে, অন্যদিকে অকাল মৃত্যু রোধের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ঢাকা আহছানিয়া মিশন আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকজাত পণ্যে করারোপ ও মূল্য বৃদ্ধির দাবি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।


বিজ্ঞাপন


সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে সিগারেটের চারটি মূল্যস্তরের মধ্যে নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করে তিন স্তরের কর কাঠামো প্রবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটের দাম যথাক্রমে ১০০ টাকা, ১৫০ টাকা এবং ২০০ টাকা নির্ধারণের পাশাপাশি সব স্তরে ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের সুপারিশ করা হয়।

এ ছাড়া ২০ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করে ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৪৮ টাকা এবং প্রতি ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সব তামাকপণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, সিগারেটের কর কাঠামোয় প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবেন এবং ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণকে ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত করা সম্ভব হবে। দীর্ঘমেয়াদে ৩ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষের অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি তামাক ব্যবহারের হার প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট কমবে এবং তামাক খাত থেকে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় সম্ভব হবে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়ে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির তুলনায় সিগারেটের দাম অনেক কম বেড়েছে। ফলে অন্যান্য নিত্যপণ্যের তুলনায় সিগারেট আরও সহজলভ্য হয়ে উঠছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।


বিজ্ঞাপন


ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, প্রস্তাবিত তামাক কর বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্জিত অতিরিক্ত রাজস্ব দেশের স্বাস্থ্য খাত শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মাসুদউল হক বলেন, দেশে তামাকজাত পণ্যের সহজলভ্যতার কারণে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষ তামাকজনিত রোগে অকাল মৃত্যুবরণ করেন, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ১৮ শতাংশ। কার্যকর কর আরোপের মাধ্যমে এ পরিস্থিতি পরিবর্তন সম্ভব।

ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের উপপরিচালক মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর শরিফুল ইসলাম, আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরামের কো-অর্ডিনেটর মারজানা মুনতাহা এবং ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আরিফুর রহমান টিপু।

এএইচ/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর