মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ঢাকা

এলএসপিদের ইউনিয়নভিত্তিক স্থায়ী কর্মসংস্থানের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ মে ২০২৬, ০৪:০০ পিএম

শেয়ার করুন:

এলএসপিদের ইউনিয়নভিত্তিক স্থায়ী কর্মসংস্থানের দাবি
প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কর্মরত ৪ হাজার ২০০ প্রশিক্ষিত লাইভস্টক সার্ভিস প্রোভাইডার (এলএসপি) ইউনিয়নভিত্তিক স্থায়ী কর্মসংস্থানের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাংলাদেশ এলএসপি ঐক্য পরিবারের নেতারা। দাবি আদায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে তারা  আমরণ অনশন ও ঘেরাও কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১২ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এতে এলএসপিদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


বিজ্ঞাপন


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ এলএসপি ঐক্য পরিবারের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব মো. শরীফ হোসেন। তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে গত প্রায় সাত বছর ধরে ৪ হাজার ২০০ এলএসপি মাঠ পর্যায়ে কাজ করে আসছেন। তারা নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদন, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, খামারিদের প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রাণিসেবা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

তিনি বলেন, এলএসপিরা এফএমডি, এলএসডি, পিপিআর ও অ্যানথ্রাক্সসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত সেবা প্রদান করেছেন। পাশাপাশি ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার খামারিকে নিয়ে ৬ হাজার ৫০০ উৎপাদনকারী দল গঠন করা হয়েছে। এসব খামারিকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি সঞ্চয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বর্তমানে কৃষি ব্যাংকে খামারিদের সঞ্চয়ের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা বলে দাবি করেন তিনি।

মো. শরীফ হোসেন বলেন, প্রকল্প চলমান অবস্থায় আমরা ইউনিয়নভিত্তিক স্থায়ী কর্মসংস্থানের দাবিতে একাধিকবার মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। এছাড়া জাতীয় প্রেসক্লাব ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সামনে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিও পালন করেছি। সাম্প্রতিক অবস্থান কর্মসূচির পর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে দুই দফা সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে হতাশা ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন এলএসপিরা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে মাঠ পর্যায়ের প্রকল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ এলএসপিরাই বাস্তবায়ন করেছেন। তবে চলতি বছরের ৩১ মার্চ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। আগামী ৭ জুনের মধ্যে ইউনিয়নভিত্তিক স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হলে সারাদেশে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এর মধ্যে আমরণ অনশন, গেরাও কর্মসূচি এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার কর্মসূচিও রয়েছে।


বিজ্ঞাপন


সংবাদ সম্মেলনে এলএসপি নেতারা বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বর্তমানে এলএসপিদের চাকরিও শেষ হয়ে গেছে। তাই সরকার দ্রুত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করলে হাজারো পরিবার মানবিক সংকটে পড়বে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান এলএসপি নেতারা।

এএইচ/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর