বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, সিন্ডিকেট রোধ, জবাবদিহিতা ও কার্যকর সরকারি নজরদারি জোরদারে একাধিক যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সোমবার (১১ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা-২০২৬ উপলক্ষে টিসিবির ট্রাক সেল কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে সিন্ডিকেট ও কারসাজি রোধে সরকার কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর সরবরাহ ব্যবস্থার পর্যবেক্ষণ এবং ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।’
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ভর্তুকিমূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া। এ লক্ষ্যেই সারা দেশে নিয়মিতভাবে টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকিমূল্যে পণ্য বিক্রি এবং বিশেষ উৎসবকে কেন্দ্র করে ট্রাকসেল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।’
তিনি জানান, গত রমজানে প্রায় ২ কোটি ২৮ লাখ উপকারভোগীর কাছে ভর্তুকি মূল্যে খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ২ কোটি ৮৮ লাখে উন্নীত করা হচ্ছে। একইভাবে গত বছরের ঈদুল আজহায় প্রায় ১০ হাজার ৯০০ টন খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা হলেও এবার তা বাড়িয়ে প্রায় ১৪ হাজার টনে উন্নীত করা হয়েছে, যা প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।
বিজ্ঞাপন
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের যে কোনো বিশেষ পরিস্থিতি, উৎসব কিংবা বাজারে অস্বাভাবিক চাপের সময় সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী টিসিবির ট্রাক সেল কার্যক্রম চালু করবে। জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
উপকারভোগীর তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আগের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এক কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ৫৯ লাখের তথ্য প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। যাচাই-বাছাই শেষে বর্তমানে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে ৮০ লাখ প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও ২০ লাখ পরিবারকে এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, টিসিবির ডিলার নিয়োগেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য টিসিবিকে একটি প্রযুক্তিনির্ভর, জবাবদিহিমূলক ও প্রশ্নহীন প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা।
বাজারে কারসাজি প্রতিরোধে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য রাষ্ট্রীয় কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি আমদানি থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে এআইভিত্তিক ডিজিটাল পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হবে, যাতে বাস্তবসম্মত তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।’
তিনি বলেন, ‘নিত্যপণ্যের আমদানি মূলধননির্ভর হওয়ায় বড় ব্যবসায়ীরা এ খাতে সক্রিয় থাকেন। তবে সরকার এমন একটি অংশীদারিত্বমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যাতে আরও বেশি উদ্যোক্তা এই খাতে অংশ নিতে পারেন এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান। স্বাগত বক্তব্য দেন টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ। পরে বাণিজ্যমন্ত্রী ন্যায্যমূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
এমআর/এমআই




