শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ঢাকা

জলবায়ু তহবিলের ন্যায্য হিস্যা ও দ্রুত অর্থ ছাড়ের দাবি পরিবেশমন্ত্রীর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ মে ২০২৬, ০৭:২১ পিএম

শেয়ার করুন:

জলবায়ু তহবিলের ন্যায্য হিস্যা ও দ্রুত অর্থ ছাড়ের দাবি পরিবেশমন্ত্রীর

তুরস্কের আন্তালিয়ায় আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনকে সামনে রেখে দেশটির হাতায় শহরে অনুষ্ঠিত ‘তুরস্কের পথে কপ৩১: সহনশীল নগর’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন আজ শনিবার সম্পন্ন হয়েছে। এই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

শুক্র ও শনিবার (৮ ও ৯ মে) অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রীরা দুর্যোগ সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে তুরস্কের পরিবেশ, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী মুরাত কুরুম প্রতিনিধিদের স্বাগত জানিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক ঐক্যের আহ্বান জানান।


বিজ্ঞাপন


সম্মেলনের একপর্যায়ে বাংলাদেশের পরিবেশ মন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের পরিবেশ মন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তুরস্কের মন্ত্রী বাংলাদেশের পরামর্শ ও মতামতের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্র। তিনি আসন্ন সম্মেলনে বাংলাদেশের পরিবেশ উন্নয়ন ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

পরিবেশ মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান নগণ্য হলেও আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি। আসন্ন সম্মেলনে বাংলাদেশ একটি বিশেষ এজেন্ডা উপস্থাপন করবে, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতা নিশ্চিত করা যায়। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ থেকে দ্রুত 'ফোকাল পার্সন' বা সমন্বয়ক নিয়োগের ঘোষণাও দেন তিনি। 

image
‘তুরস্কের পথে কপ৩১: সহনশীল নগর’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা।  ছবি: সংগৃহীত 

প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বাংলাদেশ নিজস্ব সম্পদ ও পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করলেও উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থ ছাড় ও কারিগরি সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণে উন্নত দেশগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।


বিজ্ঞাপন


সম্মেলনের প্রথম দিনে মালদ্বীপের জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আব্দুল আউয়াল মিন্টু জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা ও সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বিশাল পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মালদ্বীপের পক্ষ থেকে চারা উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা চাওয়া হলে মন্ত্রী তাদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

সম্মেলনের শেষ দিনে কসোভোর পরিবেশ মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশের পরিবেশ মন্ত্রী। কসোভো জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে অন্তর্ভুক্ত হতে বাংলাদেশের সমর্থন চাইলে বাংলাদেশ ইতিবাচক সাড়া দেয়। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে পরিবেশ বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

দুই দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক আয়োজন উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠক এবং 'হাতায় ঘোষণা' প্রকাশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাপনী দিনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, দুর্যোগ-সহনশীল নগর তৈরি এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।

বিইউ/ক.ম 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর