রেমিট্যান্স প্রবাহ উচ্চ পর্যায়ে থাকায় নানা চাপের মধ্যেও দেশের ডলার বাজারে স্বস্তি বজায় রয়েছে। এর প্রভাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে বুধবার দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারে।
তবে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মার্চ-এপ্রিল সময়ের আমদানি বিল বাবদ বৃহস্পতিবার (৭ মে) ১৫১ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে রিজার্ভ আবারও ৩৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতিতে বুধবার দেশের রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার। আকুর বকেয়া পরিশোধের পর তা কমে ২৯ বিলিয়ন ডলারের সামান্য ওপরে থাকতে পারে।
আরও পড়ুন: ২০২৫ সালে নিট এফডিআই বেড়েছে ৩৯ শতাংশ
এর আগে, গত মার্চে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ের আকুর দায় বাবদ প্রায় ১৩৭ কোটি ডলার পরিশোধের পর মোট রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছিল ৩৪ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলারে। তখন বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৯ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার।
২০২১ সালের আগস্টে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। তবে এরপর আমদানি ব্যয় মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ডলার বিক্রির কারণে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে তা নেমে আসে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে।
বিজ্ঞাপন
পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের গত ১৮ মাসে রিজার্ভ প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থপাচার ও হুন্ডির বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির ফলে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
আরও পড়ুন: দেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩৫.২৯ বিলিয়ন ডলার
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে গত ৫ মে পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২ হাজার ৯৯৫ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ২ হাজার ৫০১ কোটি ডলার। সে হিসাবে এক বছরে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৪৯৩ কোটি ডলার বা প্রায় ১৯ দশমিক ৭২ শতাংশ।
রেমিট্যান্সের এই শক্তিশালী প্রবাহের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ডলারের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সায় স্থির আছে।
টিএই/এমআই




