কোনো ব্যাংক অবসায়নের মুখে পড়লে গ্রাহকদের আমানতের অর্থ সর্বোচ্চ ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ফেরত দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে নতুন ‘আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬’-এ। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করলে সবকিছু ঠিক থাকলে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন, যা আগে ছিল ১ লাখ টাকা।
বুধবার (৬ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই আইনের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স বিভাগ দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক/প্রধান নির্বাহীদের এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে।
বিজ্ঞাপন
আইনে বলা হয়েছে, অবসায়কের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার ৭ কার্যদিবসের মধ্যে আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ করতে হবে। কোনো আমানতকারী আপত্তি থাকলে তা ৩০ দিনের মধ্যে জানাতে পারবেন। এরপর আমানত সুরক্ষা বিভাগ ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে এবং সিদ্ধান্ত দেওয়ার সাত দিনের মধ্যে অর্থ পরিশোধ করবে।
নতুন আইনে আমানত সুরক্ষা তহবিলের আয়, মুনাফা বা প্রাপ্ত অর্থ করমুক্ত রাখার কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আয়কর আইনে সংশোধন এনে এটি কার্যকর করতে পারবে। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে আইনটি পাস হয়েছে এবং গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। একই সঙ্গে ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স অধ্যাদেশ, ২০২৫ বাতিল করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, কোনো আমানত ১০ বছর পর্যন্ত সুরক্ষিত থাকবে। এই সময়ের মধ্যে দাবি না করলে পরবর্তীতে আর সেই অর্থ দাবি করা যাবে না। ব্যাংক বন্ধ হলে আমানত ফেরতে যে অর্থ ব্যয় হবে, তা পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সম্পদ থেকে আদায় করা হবে।
এছাড়া, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত প্রিমিয়াম বা কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে জরিমানা আরোপ করা হবে এবং প্রয়োজনে তা তাদের হিসাব থেকে কেটে নেওয়া হবে। টানা দুই প্রান্তিকে প্রিমিয়াম বা জরিমানা পরিশোধ না করলে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে আমানত গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। পুনরাবৃত্তি ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যাংকের ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এবং ফাইন্যান্স কোম্পানির ক্ষেত্রে ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
আইনে আরও বলা হয়েছে, প্রতি বছর প্রথম তিন মাসের মধ্যে আমানত সুরক্ষা তহবিলের নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে এবং প্রতিবেদন সরকারকে দিতে হবে, যা জনসাধারণের জন্য প্রকাশযোগ্য থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এই তথ্য আদান-প্রদান করা হবে। সরকারের অনুমোদনক্রমে গঠিত ট্রাস্টি বোর্ড প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন করতে পারবে।
সাধারণ আমানতকারী, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিদেশি সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই আইনের আওতায় সুরক্ষা পাবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পৃথক দুটি তহবিল গঠন করা হবে, যেখান থেকে সংকটাপন্ন প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে একটি ডিপোজিট প্রোটেকশন বিভাগ থাকবে, যা তহবিল পরিচালনা, ব্যাংক পরিদর্শন, তথ্য সংগ্রহ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংক চিহ্নিত করার কাজ করবে। প্রয়োজনে ব্যাংক পুনর্গঠন প্রক্রিয়াতেও এই তহবিল ব্যবহার করা যাবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, নতুন আইনে বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে কোনো ব্যাংক বন্ধ হলে আমানতকারীরা সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পেতেন, এখন তা বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। এতে ক্ষুদ্র আমানতকারীরা উপকৃত হবেন, তবে বড় করপোরেট গ্রাহকদের জন্য এর প্রভাব তুলনামূলক কম। তিনি আরও বলেন, আমানত রাখার ক্ষেত্রে ঝুঁকি বিবেচনায় সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
টিএই/ক.ম




