বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

ব্যবসার খরচ কমাতে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩০ পিএম

শেয়ার করুন:

NBR and FBCCI
প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও এফবিসিসিআই আয়োজিত পরামর্শক কমিটির ৪৬তম সভা। ছবি: সংগৃহীত

দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা এবং ব্যবসা পরিচালনায় বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ব্যবসার খরচ কমিয়ে এনে ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ বাস্তবায়নে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও এফবিসিসিআই আয়োজিত পরামর্শক কমিটির ৪৬তম সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।


বিজ্ঞাপন


অর্থমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস কোথায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে তা চিহ্নিত করে আমাদের জানান। ধাপে ধাপে এসব সমস্যার সমাধান করা হবে। তিনি জানান, ট্যাক্স সংক্রান্ত বিষয়ে বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা পূরণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে।

সম্ভাবনাময় রফতানিমুখী খাতগুলোকে তৈরি পোশাক শিল্পের মতো বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ও ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ জন্য উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব আহ্বান করা হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন, আর সে কারণেই সরকার বড় বাজেট দিচ্ছে। আগামী দুই বছর অর্থনীতিকে গতি দিতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে, এরপর তা স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের অর্থনীতিকে পুনরায় গতিশীল করতে নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদ্যমান শিল্পকে টিকিয়ে রাখা জরুরি। ব্যাংকিং ও লজিস্টিক খাতের সমস্যাগুলোর দিকেও তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং বেসরকারি খাত থেকে বাস্তবসম্মত প্রস্তাব প্রত্যাশা করেন।


বিজ্ঞাপন


এফবিসিসিআইর প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান স্বাগত বক্তব্যে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে করনীতি সহজীকরণ, অটোমেশন ও করজাল সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন। পাশাপাশি রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) বাড়ানো এবং সব রপ্তানি খাতের জন্য তা উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব দেন।

সভায় এফবিসিসিআই’র পক্ষ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— ব্যক্তি করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ, করপোরেট কর হ্রাস, আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম আয়কর কমানো, উৎসে করের হার যৌক্তিকীকরণ, টার্নওভার কর ধাপে ধাপে শূন্যে নামিয়ে আনা এবং মূসকের হার ২ শতাংশ নির্ধারণ। 

এছাড়া, শিল্পের যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানো, ঢাকা ও চট্টগ্রামে পৃথক বৃহৎ ও মাঝারি করদাতা ইউনিট স্থাপনের প্রস্তাবও করা হয়।

উন্মুক্ত আলোচনায় বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা ব্যবসা খাতের নানা সংকট তুলে ধরেন। তাদের সুপারিশগুলো বিবেচনায় রেখে আগামী জাতীয় বাজেট প্রণয়নের আশ্বাস দেন এনবিআর চেয়ারম্যান। 

সভায় এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি, সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এমআর/ক.ম 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর