মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

সিমে ভ্যাট ও ওটিটি শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি, চাপে টেলিকম খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২২ এএম

শেয়ার করুন:

সিমে ভ্যাট ও ওটিটি শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি, চাপে টেলিকম খাত
ছবি: সংগৃহীত

সিম ও ই-সিম সরবরাহ এবং প্রতিস্থাপনের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকা ভ্যাট প্রত্যাহারের পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আরোপিত ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বাতিলের দাবি জানিয়েছে দেশের মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব। 

সম্প্রতি এনবিআর ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি।


বিজ্ঞাপন


অ্যামটব জানায়, সিমে আরোপিত ভ্যাট নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ডিজিটাল সেবায় প্রবেশের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

একইসঙ্গে তরঙ্গ বরাদ্দের সময় একবার ভ্যাট এবং সেই তরঙ্গ ব্যবহার করে সেবা দেওয়ার সময় আবার ভ্যাট আরোপকে তারা ‘দ্বৈত কর’ হিসেবে উল্লেখ করে এর অবসান দাবি করেছে।

সংগঠনটি আরও জানায়, দেশে তালিকাভুক্ত মোবাইল অপারেটরদের জন্য করপোরেট কর ৪০ শতাংশ এবং অতালিকাভুক্তদের জন্য ৪৫ শতাংশ, যা বৈশ্বিক মানদণ্ডের তুলনায় বেশি। এই করহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়।

তাদের মতে, বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের মোট আয়ের প্রায় ৫৬ শতাংশই বিভিন্ন কর ও ভ্যাট হিসেবে সরকারকে দিতে হয়। স্পেকট্রাম নিলামের বছরে এই চাপ আরও বেড়ে যায়। 


বিজ্ঞাপন


বিপুল বিনিয়োগ সত্ত্বেও গ্রাহকপ্রতি গড় আয় ১৫০ টাকার নিচে থাকায় খাতটির দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণে টেলিযোগাযোগ সেবার ওপর বিদ্যমান ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ১ শতাংশ সারচার্জ প্রত্যাহারেরও প্রস্তাব দেয় অ্যামটব।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআইওবি) মোবাইল শিল্পে কাস্টমস ও ভ্যাট সুবিধার মেয়াদ ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। 

সংগঠনটি বলছে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং অবৈধ বাজার মোকাবিলায় এই সময়সীমা বাড়ানো জরুরি।

এছাড়া ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ শক্তিশালী করতে ডেটা কেবল তৈরির উপকরণ—কপার, পিভিসি ও ইউএসবি কানেক্টর—রেয়াতি সুবিধার আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। ব্যবসায়ী পর্যায়ে বর্তমান ৭.৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে প্রকৃত মূল্য সংযোজনের ওপর ভ্যাট নির্ধারণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে, যাতে ভোক্তারা কম দামে মোবাইল ফোন পেতে পারেন।

উৎপাদন ব্যয় কমাতে মোবাইল যন্ত্রাংশ আমদানিতে অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করার সুপারিশ করেছে এমআইওবি। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে শতভাগ মাদারবোর্ড সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ কর সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।

এমআর/এআরএম 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর