প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যের গায়ে সহজবোধ্য পুষ্টি লেবেলিং বা ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন তরুণরা। সোমবার (২৭ এপ্রিল) ঢাকা আহছানিয়া মিশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই দাবি জানানো হয়।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে আহছানিয়া মিশনের প্রধান কার্যালয়ে ‘ভবিষ্যতের তরুণদের ক্ষমতায়ন: সুস্থ খাদ্যাভ্যাস, প্যাকেটজাত খাবারের লেবেলিং সম্পর্কে ধারণা এবং ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং নীতি সমর্থন’ শীর্ষক দিনব্যাপী এই ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কারিগরি সহযোগিতায় এ আয়োজন করে আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টর।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (খাদ্য শিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. মাহফুজুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন- ঢাকা আহছানিয়া মিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. এস এম খলিলুর রহমান।
স্বাগত বক্তব্যে আয়োজকেরা বলেন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মোড়কজাত খাবারের প্রতি তরুণদের পছন্দ ও আগ্রহ এবং অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) বৃদ্ধির এই সময়ে তরুণদের জ্ঞান ও সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে দেশে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ বাড়ছে, যার অন্যতম কারণ অনিয়ন্ত্রিত ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস।
অনুষ্ঠানে দেশের প্রেক্ষাপটে এফওপিএলের প্রয়োজনীয়তা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সফল উদাহরণ তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যে সহজবোধ্য পুষ্টি লেবেলিং থাকলে ক্রেতারা এক নজরেই বুঝতে পারবেন খাদ্যপণ্যটি স্বাস্থ্যকর কি না। এতে ভোক্তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সঠিক নির্বাচন করতে পারবেন।
বিজ্ঞাপন
অংশগ্রহণকারী তরুণেরা দলগত কাজের মাধ্যমে এফওপিএল বিষয়ে তাদের সম্ভাব্য অবদান চিহ্নিত করেন এবং আগামী ছয় মাসের কার্য পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। তারা ভবিষ্যতে নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে এফওপিএল বাধ্যতামূলক করার জোর দাবি জানান।
ওরিয়েন্টেশনের সেশন পরিচালনা করেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ এবং প্রকল্প সমন্বয়কারী মাহবুবা রহমান। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একটি সক্রিয় যুব প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দেশে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস প্রচার ও নীতিগত পরিবর্তনের দাবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এমআইকে/এমআই



