শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

জ্বালানি নীতি ছিল বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম

শেয়ার করুন:

জ্বালানি নীতি ছিল বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদে প্রধান অতিথি ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। ছবি: সংগৃহীত

পতিত সরকারের সময় দেশের জ্বালানি নীতি বিভ্রান্তিকর ও ব্যাপকভাবে বিতর্কিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, আমলা, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের অসাধু যোগসাজশে জ্বালানি খাতে তোষণমূলক নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে এবং আমদানিনির্ভরতা বেড়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত আগামী বাজেটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমেই অর্থনৈতিক সুরক্ষা অর্জন করা যাবে শীর্ষক প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


বিজ্ঞাপন


ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, উৎপাদনমুখী বিনিয়োগকে গুরুত্ব না দিয়ে কায়েমি স্বার্থ রক্ষায় জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে এলএনজি আমদানিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমকে অবহেলা করা হয়েছে। বাপেক্সের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে কার্যত অকার্যকর করে রাখা হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি বড় কোনো বাধা নয় বলে যে ধারণা প্রচলিত রয়েছে, তা পুরোপুরি বাস্তবসম্মত নয়। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শেষ মুহূর্তে যে অসম চুক্তি করেছে, তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির শর্ত এক মাসের জন্য শিথিল করার সুযোগ বাংলাদেশকে কাজে লাগানো উচিত বলেও তিনি মত দেন।

জ্বালানি খাতের নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা ইস্যুতে সরকার যে কেবিনেট সাব-কমিটি গঠন করেছে, তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। পাশাপাশি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংস্কারের লক্ষ্যে রিফর্ম কমিশন গঠনের কথা বলা হলেও এখনো এর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে তিনি সমালোচনা করেন।

সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আহরণ ও প্রণোদনা নীতিতে কী ধরনের সংস্কার আনা হবে, তা দ্রুত জনসম্মুখে প্রকাশ করার আহ্বান জানান ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।


বিজ্ঞাপন


সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, অতীতে দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশ জ্বালানিতে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারেনি। দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকে অবহেলা করা হয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার যখন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংকট মোকাবিলায় নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছে, তখন অর্থনীতির জন্য দুঃসংবাদ হিসেবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ঋণের পরবর্তী কিস্তি স্থগিত করেছে। এর ফলে জুন মাসে প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে পারে।

বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আসন্ন বাজেটে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন থাকতে হবে। সংকটময় সময়ে একটি জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব, টেকসই ও সতর্ক বাজেট প্রণয়ন করা জরুরি। সুষম বাজেট না হলে সরকারের জনপ্রিয়তা হ্রাস পেতে পারে। তাই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

ছায়া সংসদে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকদের পরাজিত করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক সাইদুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন, জিয়াউল হক সবুজ এবং শেখ আবদুল্লাহ। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

এএইচ/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর