অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্যিক চুক্তি জ্বালানি আমদানিতে হরমুজ প্রণালির চাইতেও বড় বাধা বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। আজ শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘উত্তরণকালীন হিসেবে গ্রিন এনার্জিতে যাওয়া উচিত। জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণের প্রতিফলন আগামী বাজেটে থাকতে হবে। আওয়ামী লীগের আমলে জ্বালানি নীতি ভুল ছিল। নতুন অনুসন্ধান হয়নি, বাপেক্সে বিনিয়োগ করা হয়নি। বরং আমদানি নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ঘাটতি নেই, কিন্তু ব্যবহার করা যায় না। কায়েমী স্বার্থের কারণে শুধু আমদানি নির্ভরতা বেড়েছে।’
বিজ্ঞাপন
জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, জ্বালানি আমদানিতে হরমুজ প্রণালি বাধা তো বটেই তবে সবচেয়ে বড় বাধা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্যিক চুক্তি।’
তিনি আরো বলেন, ‘ভূ-রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা অর্থনীতির পাশাপাশি জ্বালানিতে ভূমিকা রাখছে। সংস্কারের সেতুবন্ধন না হওয়ায় আইএমএফ আর ঋণ দিবে না। ২-৩ বিলিয়ন নতুন টাকা সরকারের দরকার।’
এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘করের হার কমিয়ে করদাতা বাড়াতে হবে, আর্থিক-সামাজিক চুক্তিতে করের বিপরীতে সেবা দিতে হবে। এই সরকারের ইশতেহার অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘যে কেবিনেট সাব কমিটি দিয়ে পেট্রোল পাম্পের সামনে লাইন কমে না, তাহলে সেটা দিয়ে কী কাজ হয়? কেবিনেট সাব কমিটির উদ্যোগ জনসাধারণের সামনে তুলে ধরতে হবে।’
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘আগামী বাজেটে জ্বালানি খাতে গুরুত্ব দিতে হবে, কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হবে। বিশেষ করে বাপেক্সকে সক্রিয় করা ও সমুদ্র থেকে জ্বালানি অনুসন্ধান প্রক্রিয়া শুরু করা। জ্বালানিতে যে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে তা পুনঃবিবেচনা করতে হবে। সাশ্রয়ী দামে আমদানি করতে হবে।’
এফএ




