-
দেশের চাহিদা পূরণ হবে ১২ দিনের
-
সক্ষমতা দাঁড়াবে ২৫ দিনের
চট্টগ্রাম বন্দরে চারটি জাহাজে করে আসছে বিপুল পরিমাণ ডিজেল, যা দিয়ে দেশের ১২ দিনের চাহিদা পূরণ হবে। এর ফলে দেশে ডিজেলের মজুত সক্ষমতা ২৫ দিনে দাঁড়াবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিপিসির উপ-মহাব্যবস্থাপক (গণসংযোগ) মনিলাল দাশ। তিনি জানান, দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৫৫ হাজার টন ডিজেল মজুত রয়েছে। নতুন চারটি ট্যাংকারে আসছে আরও ১ লাখ ৪১ হাজার টন। এই তেল খালাস হলে মোট মজুতের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ২ লাখ ৯৬ হাজার টনে, যা দিয়ে সারা দেশের প্রায় ২৫ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
সূত্রমতে, ১ লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আসা জাহাজগুলো হলো এমটি ওকট্রি, এমটি কেপ বনি, এমটি লিয়ান সং হু এবং এমটি গোল্ডেন হরাইজন। এর মধ্যে প্রথম তিনটি ট্যাংকার শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
অন্য জাহাজ এমটি গোল্ডেন হরাইজন আগামী রবিবার চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় পৌঁছাতে পারে। জাহাজ চারটির স্থানীয় এজেন্ট 'প্রাইড শিপিং লাইনস'-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলামও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, "নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী তিন দিনের মধ্যে সবকয়টি ট্যাংকার বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজগুলোতে থাকা ১ লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল খালাস হলে দেশের অতিরিক্ত ১২ দিনের চাহিদা পূরণ হবে।"
বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৫৫ হাজার টন ডিজেল মজুত থাকায় চলতি মাসে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে নতুন সরবরাহ আসায় সেই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিজ্ঞাপন
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল-নির্ভর। এর মধ্যে প্রায় ২৪ শতাংশ ব্যবহৃত হয় কৃষি খাতে। এছাড়া বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রেও এই জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও বিদ্যুৎ সব খাতেই ডিজেলের ব্যাপক প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
আরও পড়ুন—
সড়ক পরিবহনের বড় অংশ যেমন বাস, ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ড ভ্যান মূলত ডিজেলচালিত। পাশাপাশি কৃষিতে সেচযন্ত্র, নৌযান এবং শিল্পকারখানার জেনারেটর চালাতেও ডিজেল অপরিহার্য।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ডিজেলের চাহিদা ছিল প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন। এই চাহিদার বড় অংশ সরাসরি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। এছাড়া বছরে প্রায় ৭ থেকে সাড়ে ৭ লাখ টন ডিজেল পাওয়া যায় অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের মাধ্যমে।
তবে ইরান-ইসরায়েল ও আমেরিকার মধ্যকার যুদ্ধাবস্থার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ আসতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদনে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এমনকি দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদনও বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
প্রতিনিধি/একেবি




