শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস বিশ্বব্যাংকের

ঢাকা মেইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৭ এএম

শেয়ার করুন:

বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস বিশ্বব্যাংকের
বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস বিশ্বব্যাংকের

ক্ষমতাসীন বিএনপির খাতভিত্তিক বিস্তারিত নির্বাচনী ইশতেহারের প্রশংসা করেছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফ–বিশ্বব্যাংকের ‘স্প্রিং মিটিংস’-এর বসন্তকালীন বৈঠকের ফাঁকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে এক বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট এই আশ্বাস দেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসাদও উপস্থিত ছিলেন।


বিজ্ঞাপন


বৈঠকে অজয় বাঙ্গা ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়লাভ করে সরকার গঠন করায় বিএনপিকে অভিনন্দন জানান।

বাংলাদেশের অর্থনীতি রূপান্তরে বিশ্বব্যাংকের জোরালো সহযোগিতা কামনা করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠকে বিশেষ করে সময়মতো অর্থ ছাড় এবং ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতির পরিমাণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

জবাবে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জানান, শুধু গতানুগতিক ঋণই নয়, বরং বন্ডের মতো পুঁজিবাজারের বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে অর্থায়নের নতুন নতুন পথ তৈরিতেও বাংলাদেশকে সহায়তা করবে বিশ্বব্যাংক।

তিনি বিশেষভাবে ডিজিটাল অর্থনীতির মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশব্যাপী ডিজিটাল সংযোগ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন।


বিজ্ঞাপন


রেহান আসাদ বৈঠকে সারা দেশে ওয়্যারলেস ও ওয়্যারলাইন—উভয় ক্ষেত্রেই শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে বিএনপির অঙ্গীকার তুলে ধরেন। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতের সংস্কার এবং সম্প্রতি চালু হওয়া ডিপিআই প্রকল্প নিয়ে কথা বলেন, যার লক্ষ্য প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি করে ডিজিটাল আইডি ও ডিজিটাল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশ সরকারের এই ডিজিটাল রূপান্তর প্রকল্পে অংশীদার হতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে সৃজনশীল শিল্প খাত বিকাশের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চান।

পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট একটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ (এনপিএল) সমস্যার সমাধান, আর্থিক খাত শক্তিশালীকরণ এবং রাজস্ব প্রশাসন সংস্কারের বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

জবাবে অর্থমন্ত্রী আর্থিক খাতের সংস্কার ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আধুনিকীকরণসহ সামগ্রিক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান। তিনি যুবসমাজের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ডিজিটাল সংযোগ ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য বিশ্বব্যাংককে অনুরোধ করেন।

বৈঠকে আর্থিক খাতের সংস্কার, উদ্ভাবন ও ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে একমত পোষণ করে। বাসস

/এএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর