দেশে বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভের পরিমাণ বেড়ে ৩৫ দশমিক শূন্য তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহ ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতার কারণে এই ইতিবাচক অবস্থানে পৌঁছেছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) পর্যন্ত গ্রস হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ৩৫ হাজার ৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যালান্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম৬) পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৩৬৬ দশমিক ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এর আগে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি রিজার্ভ দাঁড়িয়েছিল ৩৫ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন ডলার। তার আগে ২০২০ সালের জুনে রিজার্ভ প্রথমবারের মতো একই উচ্চতায় উঠেছিল। তখন করোনা ভাইরাসের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি কমে এসেছিল। আর আন্তর্জাতিক চলাচল বন্ধ থাকায় হুন্ডি বন্ধ হয়ে বেড়েছিল প্রবাসী আয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, রিজার্ভ বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার সরবরাহ স্থিতিশীল থাকা। চলতি এপ্রিল মাসেও রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাসী আয় এসেছে ১ হাজার ৭৮৮ মিলিয়ন ডলার। একই দিনে একদিনেই এসেছে ১৮১ মিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ে (১–১৫ এপ্রিল ২০২৫) রেমিট্যান্স ছিল ১ হাজার ৪৭২ মিলিয়ন ডলার। ফলে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ দশমিক ৫ শতাংশ।
বিজ্ঞাপন
চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৯৯৬ মিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।
এদিকে বাজারে অতিরিক্ত ডলার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার ক্রয় কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে, যার কাট-অফ রেট ছিল ১২২ দশমিক ৭৫ টাকা। চলতি এপ্রিল মাসে মোট ক্রয় দাঁড়িয়েছে ১২০ মিলিয়ন ডলার।
এমআর




