বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তরের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম

শেয়ার করুন:

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তরের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের
ওয়েবিনারে দক্ষিণ এশিয়ার বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবেশ, আইন ও অর্থনীতি খাতের বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন

পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে জ্বালানি অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে রূপান্তরের তাগিদ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। 

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও নেপালের জ্বালানি নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এই পরিস্থিতিকে টেকসই ও বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


বুধবার (১৫ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ‘ইকোনমিক অ্যান্ড এনার্জি সিকিউরিটি ইমপ্লিকেশনস অব কনফ্লিক্ট ইন ওয়েস্ট এশিয়া ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে এসব মতামত তুলে ধরা হয়। ওয়েবিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন) এবং সুইডিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সি (সিডা)।

বেলার পক্ষে বারীশ হাসান চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে দক্ষিণ এশিয়ার বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবেশ, আইন ও অর্থনীতি খাতের বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং টেকসই রূপান্তরের জন্য জরুরি নীতিগত সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ওয়েবিনারে বাংলাদেশের কৃষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিচালিত সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ, তৈরি পোশাক খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং নেপালে বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে কম শুল্ক আরোপের মতো ইতিবাচক উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে শিল্পখাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে মার্চেন্ট পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্ট চালু এবং বিকেন্দ্রীভূত জ্বালানি ব্যবস্থার প্রসারের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়।

তবে বক্তারা সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি ও পরিবহন খাতের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি, গ্রিড উন্নয়ন ও শক্তি সঞ্চয় অবকাঠামোতে ধীর বিনিয়োগ, নীতিনির্ধারণে স্বাধীন কারিগরি বিশেষজ্ঞদের সীমিত অংশগ্রহণ, জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর ট্যারিফ কাঠামো এবং স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক পরিকল্পনা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।


বিজ্ঞাপন


ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্লিনের প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংকট দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জ্বালানি ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে। এ পরিস্থিতিতে আমদানি-নির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এসে বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত অগ্রসর হওয়া জরুরি।

হাসান মেহেদী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর জ্বালানি আমদানি, ঋণের বাড়তি চাপ এবং বিদ্যুৎ গ্রিড আধুনিকায়নে দীর্ঘসূত্রতা এই অঞ্চলের জ্বালানি ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।

বেলার পক্ষ থেকে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, টেকসই জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করতে শক্তিশালী আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন অপরিহার্য। একইসঙ্গে পরিবেশগত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে সবার জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

ওয়েবিনারে পাকিস্তানের উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়, ভোক্তানির্ভর সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশটিতে প্রায় সাত হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে, যা জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে সহায়ক হয়েছে। তবে অব্যবহৃত জীবাশ্ম জ্বালানি কেন্দ্রের উচ্চ ক্যাপাসিটি পেমেন্ট এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর গবেষণা পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ভোক্তানির্ভর নবায়নযোগ্য জ্বালানি দ্রুত পরিবর্তন আনতে সক্ষম। এ ধরনের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতিমালাও দ্রুত হালনাগাদ করা জরুরি।

সমাপনী বক্তব্যে ইটিআই বাংলাদেশের মুনির উদ্দিন শামীম এবং বাংলাদেশ ট্রাফিক অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট ফোরামের সাজেদুল হক বলেন, জ্বালানি রূপান্তরকে আলাদাভাবে দেখার সুযোগ নেই। কার্যকর ফল পেতে হলে পরিবহনব্যবস্থা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আর্থিক পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বিতভাবে এগোতে হবে।

ওয়েবিনারের শেষে দক্ষিণ এশিয়ায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, জ্বালানি স্থিতিশীলতা জোরদার এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগ গ্রহণের জোরালো আহ্বান জানানো হয়।

এমআর/ক.ম 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর