রাজধানীর কাঁচাবাজারে আবারও বেড়েছে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম। পহেলা বৈশাখের দিনেও বাজারে স্বস্তি ফেরেনি, বরং অনেক সবজির দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। এর মধ্যে কাকরোলের দাম কেজিপ্রতি ১৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম বেশি।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, টমেটো কেজিপ্রতি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লেবু প্রতি হালি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কফি, চিচিঙ্গা ও ঝিঙে প্রতিকেজি ৮০ টাকা, লতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, উচ্ছে ৮০ টাকা এবং ঢেঁড়স ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারভেদে এসব দামে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও সার্বিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্ট।
বিজ্ঞাপন
ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরেই সবজির বাজারে দাম বাড়তির দিকে রয়েছে। বিশেষ করে পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে বাজারে চাহিদা কিছুটা বেড়েছিল। তবে মঙ্গলবার ছুটির দিন এবং বিভিন্ন এলাকায় বর্ষবরণ উৎসব ও মেলা থাকায় বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেছে।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন
যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারের বিক্রেতা জনি আলম জানান, ছুটির দিনের কারণে পাইকারি বাজার থেকে সবজির সরবরাহ স্বাভাবিকের তুলনায় কম এসেছে। ফলে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। এছাড়া মৌসুম পরিবর্তনের সময় কিছু সবজির উৎপাদন কমে যাওয়াও দামের ওপর প্রভাব ফেলছে বলে তারা দাবি করেন।
রাজধানীর শনিরআখড়া কাঁচাবাজারে কেনাকাটা করতে আসা সাজ্জাদ নামের এক ক্রেতা বলেন, দিনদিন মনে হচ্ছে সবজির দাম শুধু বাড়ছেই। গত সপ্তাহের তুলনায় আজ অনেক সবজির দামই বেশি। সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাজার করা এখন বেশ কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
আরেকজন ক্রেতা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের দাম আগে থেকেই বেশি। এর সঙ্গে সবজির দাম বাড়ায় সংসারের খরচ সামাল দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা বাজার তদারকি জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে কিছু সবজির দাম কমতে পারে। তবে মৌসুমি কারণে কিছু সবজির দাম আপাতত বেশি থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্রেতারা দ্রুত বাজারে স্বস্তি ফেরার প্রত্যাশা করছেন।
এমআর/এআরএম




