সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

ব্যাংক আইনে ‘লুটেরাদের’ পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম

শেয়ার করুন:

ব্যাংক আইনে ‘লুটেরাদের’ পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ সংশোধনের মাধ্যমে দুর্বল ব্যাংকের আগের শেয়ারধারীদের জবাবদিহিতা ছাড়াই পুনরায় মালিকানায় ফেরার সুযোগ দেওয়াকে ‘দুর্নীতি ও লুটপাটে সহায়ক’ এবং ‘আত্মঘাতী’ সিদ্ধান্ত মনে বলে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, এতে ব্যাংকিং খাত আবারো লুটপাটের অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।


বিজ্ঞাপন


ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নতুন আইনের ১৮(ক) ধারার মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে বিচারের আওতায় আনার বদলে দায়মুক্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও সুশাসনের ঘাটতি দূর না হয়ে বরং বিচারহীনতার সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, সরকার যে যুক্তিই দিক না কেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবে ব্যাংক লুটেরাদের পুরস্কৃত করার শামিল। এর মাধ্যমে ‘উইনার টেইকস অল’ ফর্মুলায় নীতি দখলের ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে।

টিআইবি সংশয় প্রকাশ করে বিবৃতিতে জানায়, সংকটে নিমজ্জিত ব্যাংকগুলোর আগের মালিকেরা কীভাবে আবার একই প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হবেন, যখন তারা নির্ধারিত অর্থের মাত্র সাড়ে সাত শতাংশ জমা দিয়ে বাকি অর্থ দুই বছরে পরিশোধের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে তারা নতুন মূলধন জোগান, পুরোনো দায় পরিশোধ ও ক্ষতিপূরণের মতো শর্ত বাস্তবে কতটা পূরণ করবেন, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।


বিজ্ঞাপন


বিবৃতিতে আরো বলা হয়, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করে ঢালাওভাবে মালিকানা ফিরিয়ে দিলে ব্যাংক খাতে কোনো গুণগত পরিবর্তন আসবে না, বরং এতে আর্থিক খাতে অস্থিতিশীলতা বাড়তে পারে এবং শেষ পর্যন্ত এর বোঝা জনগণকেই বহন করতে হবে। এই প্রেক্ষাপটে টিআইবি সরকারকে আইনটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।

এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর