সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, সংস্কার চলমান অব্যাহত প্রক্রিয়া। সেইসঙ্গে অর্থনীতির গতিশীলতার জন্য সংস্কার অপরিহার্য।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে রাজধানীতে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম বাংলাদেশ ও ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের আয়োজনে ‘বাংলাদেশ রিফর্ম ট্র্যাকার ও গণমাধ্যমের প্রাসঙ্গিকতা’ আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সংস্কারের উদ্যোগ বিভিন্ন সময় হয়েছে এবং গত সরকারের আমলে আমি মাঝে-মধ্যেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলতে গিয়ে অন্তরীণ সরকার বলে ফেলি। কেউ কেউ আমাকে বলেছে অন্তরীণ সরকার বলেন কেন? ইত্যাদি বিষয়ে আছে।
তিনি আরো বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ভেতর দিয়ে চেতনা আসলো সেটার ভিতর দিয়ে সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা আরো বেশি প্রকাশ্যে এসেছে। সংস্কার কোনো স্থির বিষয় না। এটা একটা অব্যাহত বিষয় ও চলমান বিষয় এবং যেকোনো অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে হলে মানবদেহের ভেতরে যেমন করে রক্ত সঞ্চালন দরকার, সংস্কার তেমনি একটি অর্থনীতিকে গতিশীল রাখার জন্য দরকার।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আমাদের আগামী দিনে এগিয়ে যেতে হবে। রাজনীতিবিদরা সংস্কারের ধারণা থেকে এবারের যে নির্বাচন ইশতেহার দিয়েছে। তার ভেতরে এই সংস্কারের যে প্রয়োজন এবং একই সঙ্গে যে প্রত্যাশা; দুটোই প্রকাশ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এখন আমি আপনাদের শুধু এটুকু মনে করিয়ে দিতে চাই, সংস্কারের ধারণা বাংলাদেশে যদি আপনি পেছনে ফিরে যান, তার একটা ইতিহাস আছে। আপনারা যদি স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের কথা মনে করেন তাজউদ্দিন আহমেদ যখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন, তখন সংস্কারের প্রয়োজন পড়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে এবং সেই সময় পরিত্যক্ত অবস্থা থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে রাষ্ট্রায়ত্ত করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন

ড. দেবপ্রিয় বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যদি অর্থনীতি সেই অর্থে নীতি নির্ধারকের কথা বলতে হয়, তাহলে অবশ্যই সাইফুর রহমানের নাম বলতে হবে। সাইফুর রহমান সাহেবের যে সংস্কার তার ভেতরে দুটি সংস্কার ইতিহাসের পাতায় থাকবে। একটি হল ভ্যাটের প্রচলন আরেকটা হল নমনীয় বিনিময় হারের প্রচলন।
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, নিউএজের সম্পাদক নুরুল কবির, প্রথম আলোর সৈকত হোসেন মাসুম, ইআরএফের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম উপস্থিত ছিলেন।
এসএইচ/এফএ




