মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

শুমারি ২০২৪

১০ বছরে অর্থনৈতিক ইউনিট বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম

শেয়ার করুন:

১০ বছরে অর্থনৈতিক ইউনিট বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোe

দেশে গত এক দশকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য প্রসার ঘটেছে। ২০২৪ সালে দেশে মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ ২ হাজার ৭৯২টি, যা ২০১৩ সালে ছিল ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ৫৬৫টি। 

অর্থাৎ ১০ বছরের ব্যবধানে ইউনিট বেড়েছে ৩৮ লাখ ৮৪ হাজার ২২৭টি বা ৪৯.৬৫ শতাংশ।


বিজ্ঞাপন


মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত ‘অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪’-এর চূড়ান্ত ফলাফলে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

শুমারি অনুযায়ী, দেশের অর্থনৈতিক ইউনিটগুলোতে বর্তমানে নিয়োজিত মোট জনবল ৩ কোটি ৬ লাখ ৩২ হাজার ৬৬১ জন, যা ২০১৩ সালে ছিল ২ কোটি ৪৫ লাখ ৮৫০ জন। এ হিসাবে জনবল বেড়েছে ২৫.০৩ শতাংশ। মোট জনবলের মধ্যে পুরুষের অংশ ৮৩.২৮ শতাংশ এবং নারীর অংশ ১৬.৭১ শতাংশ। পাশাপাশি তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণও (০.০১ শতাংশ) রেকর্ড করা হয়েছে।

বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সর্বোচ্চ ২৭.০৮ শতাংশ ঢাকা বিভাগে অবস্থিত। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে ১৭.৫১ শতাংশ এবং রাজশাহী বিভাগে ১৪.৩৬ শতাংশ ইউনিট। 

এছাড়া খুলনায় ১২.৭৩ শতাংশ, রংপুরে ১১.৪১ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৬.৬৩ শতাংশ এবং বরিশালে ৫.৬১ শতাংশ ইউনিট রয়েছে। সবচেয়ে কম ইউনিট রয়েছে সিলেট বিভাগে, যার হার ৪.৬৭ শতাংশ। 


বিজ্ঞাপন


খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোয় মাইক্রো ও কুটির শিল্পের প্রাধান্য রয়েছে। মাইক্রো শিল্পে রয়েছে ৬৬ লাখ ৩১ হাজার ৪৮২টি ইউনিট (৫৬.৬৭ শতাংশ) এবং কুটির শিল্পে ৪৫ লাখ ৩৩ হাজার ৫৮৯টি ইউনিট (৩৮.৭৪ শতাংশ)। এছাড়া ক্ষুদ্র শিল্পে ৪ লাখ ৯২ হাজার ৩২৩টি (৪.২০ শতাংশ), মাঝারি শিল্পে ৩৬ হাজার ১১২টি (০.৩১ শতাংশ) এবং বৃহৎ শিল্পে রয়েছে মাত্র ৯ হাজার ২৮৬টি ইউনিট (০.০৮ শতাংশ)।

মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের ৯০.০২ শতাংশই সেবা খাতের অন্তর্ভুক্ত, যার সংখ্যা ১ কোটি ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪৩টি। অন্যদিকে শিল্প খাতের ইউনিট রয়েছে মাত্র ৯.৯৮ শতাংশ। 

ব্যবসায়িক ধরনের দিক থেকে ‘পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা এবং মোটরযান মেরামত’ খাতই সবচেয়ে বড়, যার অংশ ৪১.৮২ শতাংশ।

মালিকানার দিক থেকে দেশের ৮৭.৩৬ শতাংশ স্থায়ী প্রতিষ্ঠানই ব্যক্তিগত বা পারিবারিক মালিকানাধীন। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি রয়েছে ১.৮২ শতাংশ এবং অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ১.৪৪ শতাংশ।

এছাড়া শুমারির তথ্য অনুযায়ী, পল্লী এলাকায় মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ৭৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮২৮টি এবং শহর এলাকায় ৪৩ লাখ ১৬ হাজার ৯৬৪টি। ২০১৩ সালের তুলনায় উভয় এলাকাতেই ইউনিটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

অন্যদিকে, মোট ইউনিটের মধ্যে ৫৩.৫৭ শতাংশ স্থায়ী প্রতিষ্ঠান, ৪.৯১ শতাংশ অস্থায়ী এবং ৪১.৫২ শতাংশ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডসম্পন্ন খানা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এএইচ/এআরএম

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর