সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

নিলামে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৩ এএম

শেয়ার করুন:

BB
বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

অতিরিক্ত অর্থের চাহিদা মেটাতে ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ গ্রহণ অব্যাহত রেখেছে সরকার। নিয়মিত ঋণের পাশাপাশি বিশেষ ব্যবস্থায় আরও ৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে আগামী ৮ এপ্রিল ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের একটি বিশেষ নিলামের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এবং ব্যয়ের চাপ বৃদ্ধির কারণে সরকার বিকল্প উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহে জোর দিচ্ছে। ফলে প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে বিশেষ নিলামের মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।


বিজ্ঞাপন


এর আগে গত ১ এপ্রিলও একই ধরনের ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিল ইস্যুর মাধ্যমে ৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। ধারাবাহিকভাবে স্বল্পমেয়াদি এই ঋণ গ্রহণ সরকারের নগদ প্রবাহ সংকট সামাল দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের ব্যয় বেড়েছে একাধিক কারণে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচন-সম্পর্কিত ব্যয়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে ভর্তুকির চাপ এবং রাজস্ব আহরণে ধীরগতি। একই সঙ্গে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেও অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ২৮ শতাংশ কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। এতে সরকারের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থ জোগানের ওপর চাপ বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সরকারের বিভিন্ন সামাজিক ও আর্থিক উদ্যোগ—যেমন নতুন কার্ডভিত্তিক কর্মসূচি চালু এবং কৃষিঋণ মওকুফ—তহবিলের চাহিদা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।


বিজ্ঞাপন


সাধারণত বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকার ট্রেজারি বিল ও বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে থাকে। স্বল্পমেয়াদি প্রয়োজন মেটাতে ট্রেজারি বিল এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য বন্ড ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে এসব সিকিউরিটিজ বাণিজ্যিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হয়, যা তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত।

তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া হলে তা মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যদিও বর্তমান প্রেক্ষাপটে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কম থাকায় ব্যাংকগুলো সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৬ দশমিক ০৩ শতাংশে, যা এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। ফেব্রুয়ারিতেও এই প্রবৃদ্ধিতে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি।

অন্যদিকে, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত সরকার ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় ৯৮ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৫ শতাংশ। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া হয়েছে ১৭ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা এবং বাকি অংশ এসেছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপে সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে সামষ্টিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

টিএই/এএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর