রোববার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

জরুরি ভিত্তিতে ১ লাখ টন ডিজেল, ২ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম

শেয়ার করুন:

জরুরি ভিত্তিতে ১ লাখ টন ডিজেল, ২ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার

দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে এক লাখ মেট্রিক টন ডিজেল এবং দুই কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য মোট ব্যয় হতে পারে প্রায় ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকার বেশি।

শনিবার (৪ এপ্রিল) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত দুটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
 
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কাজাখস্তানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপি থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১ লাখ মেট্রিক টন ৫০ পিপিএম সালফার মানের ডিজেল আমদানি করা হবে। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৫৯ লাখ ৯৪ হাজার ৭৬০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৮৯ কোটি ২৯ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা।


বিজ্ঞাপন


এদিকে সিঙ্গাপুরভিত্তিক আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানিরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির মূল্য ধরা হয়েছে ১৯ ডলারের কিছু বেশি। ফলে দুই কার্গো এলএনজি আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় হতে পারে প্রায় ১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। তবে আন্তর্জাতিক বাজারদর ও বিনিময় হারের ওঠানামার কারণে চূড়ান্ত ব্যয়ে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) দেশের পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানি আমদানি, মজুত, প্রক্রিয়াকরণ ও বিতরণের দায়িত্ব পালন করে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিপিসি মোট জ্বালানি তেলের ৫০ শতাংশ সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) পদ্ধতিতে এবং বাকি ৫০ শতাংশ আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আমদানি করে থাকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কাতার ও ওমান থেকে এলএনজি রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বেড়েছে। ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উৎস থেকে জরুরি ভিত্তিতে এসব জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া পূর্বনির্ধারিত কিছু সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময় অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহে অপারগতা জানিয়ে ফোর্স মেজর ঘোষণা করায় সরবরাহ শৃঙ্খলে ঝুঁকি তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


বিজ্ঞাপন


এমআর/ক.ম 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর