সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

শেষ সময়ে মার্কেট-ফুটপাতে ঈদ শপিংয়ের ধুম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০২৬, ০২:২০ পিএম

শেয়ার করুন:

শেষ সময়ে মার্কেট-ফুটপাতে ঈদ শপিংয়ের ধুম
শেষ সময়ে মার্কেট-ফুটপাতে ঈদ শপিংয়ের ধুম

রাজধানীর মিরপুরে ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মার্কেট ও ফুটপাতে ক্রেতাদের ঢল নেমেছে। সকাল থেকেই নানা বয়সী মানুষ বিভিন্ন শপিংমলে ও ফুটপাতে জামা-কাপড়, জুতা, পাঞ্জাবি ও অন্যান্য সামগ্রী কেনার জন্য জমায়েত করেছেন। বিকেলের দিকে ক্রেতার চাপ আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, চাঁদরাত পর্যন্ত বিক্রির ধুম চলবে। বিশেষ করে শিশু ও নারীদের জুতা ও পোশাকের প্রতি চাহিদা বেশি। 

সবেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শপিংমল ও মার্কেটগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের সুশৃঙ্খলভাবে চলাচল নিশ্চিত করতে নিরাপত্তাকর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন। ফুটপাতেও কিছু ক্ষেত্রে দোকানের সামান্য ভিড় থাকলেও, সাধারণত সকালেই ক্রেতাদের সংখ্যা বেশি। বাজারে কসমেটিকস, ব্যাগ এবং অন্যান্য ফ্যাশন সামগ্রীর চাহিদাও চোখে পড়েছে। বিশেষ করে মেয়েদের প্রসাধনী ও পুরুষদের বেল্ট, ব্যাগের বিক্রি বেশি। ক্রেতারা পছন্দের ডিজাইন ও রঙ দেখে কেনাকাটা করছেন। এছাড়া বাজারে রঙিন পোশাক, জামা-কাপড়, পাঞ্জাবি, জুতা, বেল্ট এবং কসমেটিকসের সমন্বয়ে ঈদের কেনাকাটার দৃশ্য চোখে পড়ার মতো। ক্রেতারা উৎসবকে উপভোগ করতে সময় নিয়ে বাজারে ঘুরছেন। 


বিজ্ঞাপন


বাজারে সকাল থেকেই ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেক ক্রেতা ভিড় এড়িয়ে সকালেই কেনাকাটা শেষ করতে আসছেন। বিকেলের পর ভিড় আরও বেড়ে যাবে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

4

ঈদ কেনাকাটায় সাধারণত প্রথমেই থ্রি-পিস কেনা হয়। পরে ক্রেতারা জুতা, কসমেটিকস, পাঞ্জাবি, শাড়ি ও অন্যান্য সামগ্রী কিনতে আসেন।

মিরপুরের একটি শপিং সেন্টারের চারতলায় বাচ্চাদের জন্য জুতা কিনতে আসা উম্মে কুলসুম বলেন, রোজার শুরুতেই দুই মেয়ের জামা কিনেছিলাম। তাদের জন্য জুতা কিনতে এসেছি। সন্ধ্যার পর এখানে পা ফেলার জায়গা থাকে না, তাই আগেই চলে এসেছি।


বিজ্ঞাপন


বাজারে ছেলেদের স্যান্ডেল ও কেডস এবং মেয়েদের হিল জুতার চাহিদা বেশি। ডিজাইন ও ব্র্যান্ডভেদে ছেলেদের জুতার দাম ৬০০ থেকে ৫ হাজার টাকা, মেয়েদের জুতা ৮০০ থেকে প্রায় ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত।

শাহ আলী মার্কেটের জুতা ব্যবসায়ী মোসাদ্দেক আলী জানিয়েছেন, ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতার চাপ এখন সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে সন্ধ্যার পরে বিক্রি আরও বৃদ্ধি পায়। তিনি বলেন, আমরা এক দামে বিক্রি করছি, তাই ক্রেতারা সাধারণত দরদাম করেন না। বিক্রির চাপ বাড়লেও সবাই সুষ্ঠুভাবে কেনাকাটা করতে পারছে।

তিনি বলেন, মার্কেটে ক্রেতারা জামা-কাপড়ের সঙ্গে জুতা, স্যান্ডেল ও কেডসের জন্যও ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আশা করছি, চাঁদরাত পর্যন্ত বিক্রি আরও বাড়বে এবং শেষ মুহূর্তের শপিংয়ে মানুষের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হবে।

এই সময় ফুটপাতেও ক্রেতার ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রোজার দিনে শপিংমলে ঘোরাঘুরি কষ্টকর হওয়ায় অনেক ক্রেতাই ভিড় এড়িয়ে সকালেই কেনাকাটা শেষ করছেন। নারী ক্রেতাদের মধ্যে সুতি ও আরামদায়ক থ্রি-পিসের চাহিদা বেশি। শাড়ি, টুপি, ফ্যাশনেবল পোশাক এবং পুরুষদের পাঞ্জাবি, শার্ট ও বেল্টেও ক্রেতার নজর কাড়ছে বিক্রেতারা।

পেলেস শপিং সেন্টারের কর্মচারী রিয়াজ বলেন, ঈদকে সামনে রেখে পাঞ্জাবি, শার্ট ও প্যান্টের বিক্রি সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। চাঁদরাত পর্যন্ত বিক্রি চলবে এবং ক্রেতাদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন দামের পাঞ্জাবি রাখা হয়েছে। শপিং সেন্টারে ক্রেতারা সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকে, বিশেষ করে পরিবারের জন্য জামা-প্যান্ট ও পাঞ্জাবি সংগ্রহ করছেন।

5

রিয়াজ বলেন, ক্রেতাদের সামর্থ্য অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করায় সবাই সন্তুষ্ট থাকছেন। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় মানুষের উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছি। 

বাজারের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুমে ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। ঈদকে সামনে রেখে অনেক ক্রেতা একসঙ্গে একাধিক দোকান ঘুরছেন। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি ক্রমবর্ধমান হচ্ছে এবং চাঁদরাত পর্যন্ত আরও বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে ইফতারের পর ক্রেতার উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো বেড়ে যায়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, শেষ মুহূর্তের শপিংয়ে মানুষের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকবে। এই সময় ক্রেতারা জামা-কাপড়, জুতা, প্যান্ট, স্যান্ডেল ও অন্যান্য সামগ্রী কিনতে দোকান ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বিক্রির চাপে দোকানগুলো সবসময় ব্যস্ত থাকে, তবে ক্রেতাদের সুবিধার জন্য দাম ও পণ্যের বৈচিত্র্য বজায় রাখা হয়।

এএইচ/এএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর