বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

বাজারে সয়াবিনের সরবরাহ কম, খোলা তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম

শেয়ার করুন:

বাজারে সয়াবিন তেল সংকটের কারণ সরবরাহ কম, খোলা তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী
বাজারে সয়াবিন তেল সংকটের কারণ সরবরাহ কম, দাম ঊর্ধ্বমুখী। ফাইল ছবি

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে হঠাৎ করেই বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে গেছে। অনেক দোকানে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও ক্রেতাদের একাধিক দোকান ঘুরেও তেল কিনতে হচ্ছে। এ অবস্থায় খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও বেড়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনে রাখছেন। এতে বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।

বুধবার (১১ মার্চ) রাজধানীর কয়েকটি দোকান সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।


বিজ্ঞাপন


রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা কাজী সামীম প্রথমে বাসার আশপাশের কয়েকটি মুদিদোকানে খোঁজ করেন। কিন্তু কোথাও পছন্দমতো ২ লিটারের বোতল পাননি। পরে বিবিরবাগিচা গেটে গিয়ে চারটি দোকান ঘোরার পর ৫ লিটারের একটি বোতল কিনতে সক্ষম হন।
সামীম বলেন, আমার দরকার ছিল ছোট বোতল। কিন্তু কোথাও ১ বা ২ লিটারের বোতল পেলাম না। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে বড় জার কিনতে হয়েছে। কয়েকটি দোকান ঘুরে তেল কিনতে হয়েছে, যা আগে কখনো হয়নি।

বাজারে বোতলজাত তেলের সরবরাহ কম

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানে ৫ লিটারের বোতল কিছুটা পাওয়া গেলেও ছোট বোতলের তেল খুবই কম। দোকানে ৫ লিটারের বোতল সীমিত পরিমাণে পাওয়া গেছে। তবে ১ ও ২ লিটারের বোতল হাতে গোনা কয়েকটি দোকান ছাড়া কোথাও নেই। সেখানে মূলত পুষ্টি, রূপচাঁদা, বসুন্ধরা ও ফ্রেশ ব্র্যান্ডের তেলই বেশি দেখা গেছে। অন্য ব্র্যান্ডের তেল প্রায় অনুপস্থিত।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী জাফর হোসেন বলেন, এখন তেলের অবস্থা ভালো না। কয়েক দিন আগেও ডিলারের কাছ থেকে মোটামুটি তেল পাওয়া যেত। কিন্তু এখন বোতলজাত তেল প্রায় নেই বললেই চলে।


বিজ্ঞাপন


তিনি জানান, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ডিলারের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ কার্টন তেল আনতেন। কিন্তু গত কয়েক দিনে তা কমে মাত্র দুই বা তিন কার্টনে নেমে এসেছে। তাও আবার বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

আতঙ্কে বাড়তি কিনছেন অনেক ক্রেতা

ব্যবসায়ীরা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক ক্রেতা ভবিষ্যতে তেলের সংকট হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন। তাই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনে রাখছেন।
তারা বলেন, যার আগে এক বোতল লাগত, সে এখন দুই বোতল নিচ্ছে। আবার সামনে ঈদের বাজারও আছে। ফলে একসঙ্গে চাহিদা বেড়ে গেছে।

ডিলারদের কাছ থেকে কম পাচ্ছেন খুচরা বিক্রেতারা

কারওয়ান বাজারের কয়েকটি ডিলারের দোকানে দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা খুচরা বিক্রেতারা তেল সংগ্রহ করতে ভিড় করছেন। কিন্তু অধিকাংশই চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না।

ডিলার পর্যায়ে দাম বেড়েছে

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সর্বশেষ বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়। তখন প্রতি লিটার ৬ টাকা বাড়িয়ে ১ লিটারের বোতলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৯৫ টাকা এবং ৫ লিটারের বোতলের দাম ধরা হয় ৯৫৫ টাকা।

তবে বর্তমানে খুচরা বাজারে সরকারি নির্ধারিত দাম অপরিবর্তিত থাকলেও ডিলার পর্যায়ে দাম কিছুটা বেড়েছে। আগে খুচরা বিক্রেতারা ৫ লিটারের বোতল ডিলারের কাছ থেকে প্রায় ৯৩০ টাকায় কিনতেন এবং ৯৪০ টাকায় বিক্রি করতেন। এতে প্রায় ১০ টাকা লাভ থাকত।
কিন্তু এখন সেই বোতল কিনতে হচ্ছে প্রায় ৯৫০ টাকায়। ফলে খুচরা বিক্রেতাদের লাভ কমে এসেছে। তারা ৯৫৫ টাকায় বিক্রি করলে মাত্র ৫ টাকা লাভ থাকছে।

কিছু এলাকায় আবার নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের এক বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনেক দোকানে ১ লিটারের বোতল ২২০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে, যদিও এর নির্ধারিত দাম ১৯৫ টাকা।

খোলা তেলের দামও বেড়েছে

বোতলজাত তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে খোলা তেলের বাজারেও। পাইকারি বাজারে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম গত কয়েক দিনে কেজিতে প্রায় ৫ টাকা করে বেড়েছে।

কারওয়ান বাজারে গতকাল প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১৯৮ থেকে ২০০ টাকায়। কয়েক দিন আগে এই দাম ছিল ১৯৩ থেকে ১৯৫ টাকা। একইভাবে খোলা পাম তেলের দাম কেজিতে ১৬৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৭০ টাকা।

নজরদারিতে নামছে ভোক্তা অধিকার

বাজারে তেলের সরবরাহ ও দামের পরিস্থিতি নিয়ে নজরদারি শুরু করবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
সংস্থাটির মহাপরিচালক ফারুক আহম্মেদ বলেন, বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকটের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সামনে ঈদের আগে বাজারে আরও চাপ বাড়তে পারে।

এমআর/এআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর