মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বিগত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরবরাহে বিঘ্ন ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হওয়ায় তেলের বাজারের এই অস্থিরতা।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম মঙ্গলবার ৮ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫.১২ ডলারে পৌঁছেছে। এটি জুলাই ২০২৪-এর পর সর্বোচ্চ স্তর।
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেল সূচক ডব্লিউটিআই ৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৬.৪৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে ইরানে যৌথভাবে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাসহ দেশটির নিহতের সংখ্যা ৮০০ ধর ধর।
তবে পাল্টা ইসরায়েলে হামলা চালাচ্ছে ইরানও। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে। ইরান হামলা চালিয়ে হরমুজ প্রণালীতেও, যে জলসীমা দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মিডিয়ার খবর বলছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলরত তেলবাহী অন্তত চারটি জাহাজে হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছে ইরান। তারই প্রভাব পড়েছে বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাজারে।
এদিকে সমঝোতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলোচনার উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর দেশটি এখন পুরোপুরি ‘প্রতিরক্ষা কৌশলে’ মনোযোগ দিচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যারা কূটনীতির পথে চলার দাবি জানিয়েছিল, কিন্তু ‘ইরানের যুক্তির সামনে নত হয়ে সামরিক পথ গ্রহণ করেছে’, তাদের ওপর ‘চিরস্থায়ী লজ্জা’ নেমে আসবে।
এএইচ

