শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

‘বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের বিকল্প নেই’ 

নিজস্ব প্রতিবেদক 
প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম

শেয়ার করুন:

‘বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের বিকল্প নেই’ 

ব্যবসা ও বিনিয়োগে গতি আনতে হলে নির্বাচন-পরবর্তী উন্নত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি বলে মত দিয়েছে ব্যবসায়ী নেতারা। তাদের মতে, সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ধরে রাখার পাশাপাশি নিরাপদ ও অনুমেয় পরিবেশ নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ আসবে না, কর্মসংস্থানও বাড়বে না।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত ‘ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণে নির্বাচন-পরবর্তী উন্নত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার অত্যাবশ্যকীয়তা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা উঠে আসে। 


বিজ্ঞাপন


সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপার্সন এ এইচ এম আহসান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন এফবিসিসিআইর প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান।

সভাপতির বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, গত কয়েক বছরে কঠোর মুদ্রানীতি, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, অবৈধ চাঁদাবাজি, অনিয়ম-দুর্নীতি ও প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বেসরকারিখাত প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নবনির্বাচিত সরকার আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিয়ে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহজীকরণে কার্যকর উদ্যোগ নেবে।

তাসকীন আহমেদ বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, নীতিনির্ধারক প্রতিষ্ঠান ও অর্থনৈতিক মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে বেসরকারিখাতের সমন্বয় বাড়াতে হবে। তবেই নীতির বাস্তবায়ন হবে দ্রুত ও কার্যকর।

 এ এইচ এম আহসান বলেন, সরকার ও বেসরকারিখাতের সমন্বিত উদ্যোগে চলতি রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি মনে করেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় চাহিদা ও সরবরাহের সমন্বয় এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত নিশ্চিত করা জরুরি।


বিজ্ঞাপন


তার ভাষ্য, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হলে উদ্যোক্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় কমে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে পণ্যের দামে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান বলেন, সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা ও উন্নত আইন-শৃঙ্খলা ছাড়া টেকসই প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক পরিবেশ শক্তিশালী হলে ব্যবসা পরিচালনা সহজ হয়। তবে দ্রুত কিছু কাঠামোগত সংস্কার না আনলে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শিবির বিচিত্র বড়ুয়া জানান, আস্থার সংকট দূর করতে আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়ন অপরিহার্য। তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আইপিও নীতিমালা ২০২৫–২৮ প্রণয়নের কাজ হাতে নিয়েছে, যা ব্যবসা ও বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করবে।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল জলিল বলেন, আলু উৎপাদনে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা যাচ্ছে না। ফলে রপ্তানির সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কৃষক, উদ্যোক্তা ও সরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রাজধানীতে প্রায় পাঁচ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা যুক্ত হয়েছে, যা যানজট বাড়াচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ঈদের পর কিছুটা উন্নতি দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে যন্ত্রাংশ আমদানি নীতিমালা ও চার্জিং গ্যারেজ তদারকির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখা এবং চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

মুক্ত আলোচনায় ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, যানজট ও চাঁদাবাজি পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়াচ্ছে, যার প্রভাব পড়ে বাজারদরে। ভ্যাট-ট্যাক্স নীতিতে সহনীয়তা আনা, আমদানিতে সীমিত অনুমতির বদলে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং বাজার তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

কোল্ডস্টোরেজ মালিকরা বলেন, উত্তরবঙ্গে আলুর দাম কেজিপ্রতি ৮ টাকায় নেমে আসায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ঘোষিত ক্ষতিপূরণ দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।

সভায় ডিসিসিআই পরিচালনা পর্ষদের সদস্যসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, বিনিয়োগ টানতে হলে এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হতে হবে আইন-শৃঙ্খলা ও নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

এমআর/ক.ম 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর