# গ্রাহক বেড়ে ২.৫৮ কোটি
# একবছরে গ্রাহক বেড়েছে ১৭ লাখ
# আমানত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার কোটি
# ঋণ বিতরণ বেড়ে ৩৫ হাজার কোটি
# আমানতের শীর্ষে ইসলামী ব্যাংক
# কমেছে এজেন্ট ও আউটলেট সংখ্যা
দেশের প্রত্যন্ত জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সুবিধার আওতায় আনতে ২০১৩ সালে চালু হওয়া এজেন্ট ব্যাংকিং এখন সারাদেশে বিস্তৃত। গ্রাম থেকে শহর— সব জায়গায় এই সেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা সহজেই টাকা জমা, উত্তোলন, এমনকি ঋণ সুবিধাও পাচ্ছেন। ব্যাংক খাত নানা চাপ ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গেলেও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের প্রতি মানুষের আস্থা ও আগ্রহ কমেনি; বরং গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে গ্রাহকসংখ্যা।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক ছিলেন ২ কোটি ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ২৩০ জন। এক বছর পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৫৮ লাখ ৩২ হাজার ৯৮১ জনে। অর্থাৎ এক বছরে নতুন যুক্ত হয়েছেন ১৭ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫১ জন গ্রাহক, যা প্রবৃদ্ধির হিসাবে ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এখন আর সাধারণ মানুষকে লেনদেনের জন্য জেলা বা উপজেলা শহরে যেতে হয় না। নিজ এলাকার এজেন্ট পয়েন্টেই ব্যাংকিং সেবা পাওয়া যাচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটিই কমছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকের এজেন্ট ও আউটলেটের মাধ্যমে ঋণ সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরের ডিসেম্বর প্রান্তিকে আমানত ও ঋণ— দুই ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
ঋণ বিতরণে এজেন্ট ব্যাংকিং নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে যেখানে বিতরণ হয়েছিল ২৪ হাজার ২৮ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ২৩ কোটি টাকায়। এক বছরে ঋণ বিতরণ বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা, যা প্রবৃদ্ধির হিসেবে প্রায় ৪৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে আমানতেও ধারাবাহিক বৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানতের পরিমাণ ছিল ৪১ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তা বেড়ে হয়েছে ৪৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে আমানত বেড়েছে ৭ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা বা ১৮ দশমিক ৫১ শতাংশ।
অমানতের হিসাবে গত বছর শেষে শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় ব্যাংকটির আমানত দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, যার আমানত ৬ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা। এরপর রয়েছে ব্যাংক এশিয়া (৬ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা), আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক (৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা), ব্র্যাক ব্যাংক (২ হাজার ৮৯৭ কোটি টাকা) এবং ইউসিবি ব্যাংক (১ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা)।
তবে এই অগ্রগতির মাঝেও কিছু নেতিবাচক দিক রয়েছে। গ্রাহক, আমানত ও ঋণ বাড়লেও এজেন্ট ও আউটলেটের সংখ্যা কমেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এজেন্ট ছিল ১৬ হাজার ২১টি, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কমে হয়েছে ১৫ হাজার ৩২৭টি। অর্থাৎ এক বছরে কমেছে ৬৯৪টি। একই সময়ে আউটলেট ২১ হাজার ২৪৮টি থেকে কমে হয়েছে ২০ হাজার ৫০১টি, কমেছে ৭৪৭টি। তবে সেবা প্রদানকারী ব্যাংকের সংখ্যা ৩১টিতেই স্থির রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মূল লক্ষ্য ছিল ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা, যা ইতোমধ্যে সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। নতুন নতুন সেবা যুক্ত হওয়ায় গ্রাহক ও লেনদেন আরও বাড়বে।
তিনি জানান, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে এখন বিমা সুবিধাও যুক্ত হচ্ছে, যা এ খাতের বিস্তারে নতুন গতি আনবে।
টিএই/এএইচ

