বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলক বদলি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম

শেয়ার করুন:

বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকে শোকজ
বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকে শোকজ। ছবি: সংগৃহীত

গভর্নরের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সংবাদ সম্মেলন করায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগ–১ জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসএমই ও স্পেশাল প্রোগ্রাম বিভাগের পরিচালক নওশাদ মোস্তফাকে বরিশাল অফিসে, বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগ–১–এর অতিরিক্ত পরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাসুম বিল্লাহকে রংপুর অফিসে এবং সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণকে বগুড়া অফিসে বদলি করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


এর আগে সোমবার সংশ্লিষ্ট তিন কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়। নির্বাচনের পরপরই আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা গভর্নরকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দিয়ে দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণ, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগসহ একাধিক বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। ওই ঘটনার পর তাদের ১০ দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে জবাব পাওয়ার আগেই তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক কর্মদিবস পর হঠাৎ ডাকা সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তারা গভর্নরের কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন। এর মধ্যে ছিল দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণ, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদান উদ্যোগ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া। তারা অভিযোগ করেন, তুলনামূলক কম দুর্বল এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে পাঁচটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ–২০২৫–এর আওতায় ইতোমধ্যে পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে সরকারি মালিকানায় একটি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ–কে দ্রুত ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সসহ আটটি এজেন্ডা নিয়ে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক আহ্বান করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্রের দপ্তর থেকেও জানানো হয়, শুধু বিকাশকে লাইসেন্স দেওয়ার জন্য পর্ষদ সভা ডাকা হয়েছিল—এ তথ্য সঠিক নয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্টাফ রেগুলেশন অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা সংবাদ সম্মেলন বা প্রকাশ্য বক্তব্য দেওয়ার আগে গভর্নরের অনুমোদন নিতে হয় এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা অভ্যন্তরীণ ফোরামে উত্থাপনের সুযোগ রয়েছে। এই বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগেই তিন কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।


বিজ্ঞাপন


সংবাদ সম্মেলনের দিন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর কয়েকটি গণমাধ্যমে বলেন, নির্বাচনের পর একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি ঘোলা করার চেষ্টা করছে। পরিচালনা পর্ষদের আলোচ্য বিষয় প্রকাশ্যে আনা শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ বলেন, ব্যাংক খাতে ‘খেয়ালি বক্তব্য’ বন্ধ করে বস্তুনিষ্ঠ প্রক্রিয়ায় ব্যাংক রেজল্যুশন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মাসুম বিল্লাহ জানান, তারা প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসন চান, কোনো ব্যক্তির নয়। তার ভাষায়, “স্বায়ত্তশাসন মানে এই নয় যে প্রতিষ্ঠানের প্রধান একনায়ক বা স্বৈরাচার হয়ে উঠবেন।” নওশাদ মোস্তফা বলেন, “৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান না ঘটলে হয়তো আমরা এতটা খোলামেলা হতাম না।”

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন, ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন এবং কর্মকর্তাদের পদোন্নতিসহ বিভিন্ন দাবিতে নীল, হলুদ ও সবুজ—এই তিন প্যানেলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি ঐক্য গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ঐক্যের সমন্বয়ক হিসেবে নির্বাহী পরিচালক ও বিএফআইইউর ডেপুটি হেড মফিজুর রহমান খান চৌধুরীকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও ১৬ ফেব্রুয়ারির ওই সংবাদ সম্মেলনে তাকে উপস্থিত দেখা যায়নি।

টিএই/ক.ম/

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর