বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

রোজায় কতটা বদলেছে দেশি-বিদেশি ফলের বাজার, বেশি চড়া কোন ফলের দাম?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:২৭ পিএম

শেয়ার করুন:

রোজায় কতটা বদলেছে দেশি-বিদেশি ফলের বাজার, বেশি চড়া কোন ফলের দাম?

পবিত্র রমজান শুরু হতেই রাজধানীর ফলের বাজারে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। ইফতারের ডালা সাজাতে দেশি-বিদেশি প্রায় সব ফলের দামই এখন চড়া। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে খেজুর, মাল্টা ও আপেলের দাম। পাশাপাশি কলা, বরই, পেঁপে, পেয়ারা, তরমুজসহ দেশীয় ফলেও লেগেছে আগুন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) হাতিরপুল, বড় মগবাজার, রামপুরা কাঁচাবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায় রোজার দ্বিতীয় দিনেই ফলের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। তবে বাড়তি দামে অনেককেই হিসাব কষে কিনতে দেখা গেছে।

রমজানে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে খেজুরের। সেই খেজুরের দামই এবার সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। মানভেদে কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। অনেক দোকানে গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০০ থেকে ১২০ টাকা বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানের খেজুরও এখন মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। ইফতারের প্রধান অনুষঙ্গ হওয়ায় খেজুর কিনতেই হচ্ছে, কিন্তু আগের তুলনায় কম পরিমাণে কিনছেন অনেকেই। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি ব্যয় ও পাইকারি দামের প্রভাবেই খুচরায় এই মূল্যবৃদ্ধি। ফলে ফলের বাজারে সবচেয়ে চড়া দামের তালিকায় এখন খেজুরই শীর্ষে।


বিজ্ঞাপন


বিদেশি ফলের মধ্যে মাল্টা ও আপেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে মাল্টা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ থেকে ৩৮০ টাকায়, যা কয়েকদিন আগেও ছিল ২৮০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে। আপেল প্রকারভেদে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় ৫০ থেকে ৭০ টাকা বেশি। 

ক্রেতারা জানিয়েছেন, সপ্তাহের ব্যবধানে আপেলের দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আঙ্গুর ও কমলার দামও ঊর্ধ্বমুখী। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পাইকারি বাজারে এক পেটি কমলার দাম কয়েক হাজার টাকা বেড়েছে। ফলে বিদেশি ফলের বাজারে রমজানের শুরুতেই বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

দেশীয় ফলের বাজারেও স্বস্তি নেই। কলার ডজনপ্রতি দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত। সাগর কলা এখন ডজনে ১৫০ টাকা, যা কয়েকদিন আগেও ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা। শবরি কলা ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা এবং বাংলা কলা ১০০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 

বিক্রেতারা বলছেন, দেশীয় ফলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কলার দাম। পাশাপাশি বরই কেজিতে ১২০ থেকে ২০০ টাকা, পেয়ারা ১০০ থেকে ১৫০ টাকা এবং দেশি পেঁপে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত দুই থেকে তিন দিনের ব্যবধানে এসব ফলের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।


বিজ্ঞাপন


তরমুজের মৌসুম পুরোপুরি শুরু না হলেও কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৯০ টাকা চাওয়া হচ্ছে, যা অনেকের কাছে বেশি মনে হচ্ছে। আনারস প্রতিটি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা বলছেন, মৌসুমের শুরুতেই এমন দাম অস্বাভাবিক। তবে বিক্রেতাদের দাবি, সরবরাহ সীমিত থাকায় দাম কিছুটা বেশি।

F 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোজার কারণে ফলের চাহিদা বাড়ে, আর নির্বাচনের পর সরবরাহে বিঘ্ন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। পাইকারি বাজার থেকেই ২০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দামে ফল কিনতে হচ্ছে।

এদিকে বিভিন্ন আড়তে সিন্ডিকেটের অভিযোগও আছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তারা বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করতে পারেন না। তবে ভোক্তাদের মতে, প্রতি বছরই রমজানের আগে বাজার নিয়ন্ত্রণের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন খুব কম দেখা যায়। ফলে রোজা এলেই ফলের বাজারে বাড়তি চাপ যেন অনিবার্য হয়ে দাঁড়ায়।

F2

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রমজানকে ঘিরে চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি ও বাজারে অসাধু চক্র সক্রিয় থাকলে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। রমজানের শুরুতেই যখন ফলের দাম এভাবে বেড়েছে, তখন সামনে আরও বাড়বে কি না তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে ক্রেতাদের মধ্যে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, অন্তত পবিত্র এই মাসে ফলের বাজার যেন সাধ্যের মধ্যে থাকে। নইলে ইফতারের টেবিলে ফলের বৈচিত্র্য কমে যাবে, বাড়বে কেবল দুশ্চিন্তার ভার।


এএইচ/এফএ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর